ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনস: পর্ব-৭

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকেই লিস্টিং রেগুলেশনস মেনে চলতে হয়। শেয়ারবাজার শিক্ষা এই বিভাগে আজকের পর্বটি সাজানো হয়েছে “ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশনস,২০১৫” এই প্রবিধানটি নিয়ে। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতির বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সম্পূর্ণ এই প্রবিধানটি বিভিন্ন পর্বে প্রকাশ করা হবে। আজ ৭ম পর্ব দেওয়া হলো: (নিচে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ,পঞ্চম পর্ব ও ৬ষ্ঠ পর্বের লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে)।

০৮. ডিরেক্ট লিস্টিং

এই চ্যাপ্টারের রেগুলেশনস (রেগুলেশনস ৮ থেকে ১৩) অ-তালিকাভুক্ত বা তালিকাচ্যুত সিকিউরিটিজের পুন:তালিকাভুক্তিতে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য প্রযোজ্য হবে।

০৯. মূলধন ও অপারেশন (ব্যবসায়িক কার্যক্রম) এর বিষয়ে যেগুলো প্রয়োজন:

(১) ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা হতে হবে।

(২) কোনো পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা যাবে না।

(৩)  সর্বশেষ ৫ বছরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকতে হবে। 

(৪) সর্বশেষ ৫ বছরের আর্থিক হিসাবের মধ্যে ৩ বছর গ্রোথ প্যাটার্নে মুনাফায় থাকতে হবে।

(৫) নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হবে।

(৬) পূর্ববর্তী দুই বছরে কোনো মূলধন বৃদ্ধি করা যাবে না (বোনাস শেয়ার ছাড়া)।

(৭) লিস্টিংয়ের আবেদন জমা দেওয়ার পূর্ববর্তী দুই বছরে বোনাস ইস্যু ছাড়া একই শ্রেণীর সিকিউরিটিজ ইস্যু করা যাবে না।

(৮) সর্বশেষ ৩ বছরের আর্থিক হিসাবে নিট চলতি মূলধন (চলতি মূলধন থেকে চলতি দায় বিয়োগ) ইতিবাচক থাকতে হবে।

(৯) কমিশন কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত করপোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইন পরিপালন করতে হবে।

(১০) কোনো স্পন্সর বা পরিচালক ব্যাংক ঋণ খেলাপি হতে পারবে না।

(১১) ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি দিয়ে রেটিং করাতে হবে।

(১২) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস,১৯৮৭ এবং আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইএফআরএস)/বাংলাদেশে গৃহীত আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস(আইএএস) / বাংলাদেশে গৃহীত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডস অন অডিটিং (আইএসএ) অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।

১০. ডিরেক্ট লিস্টিং/রি-লিস্টিংয়ের প্রক্রিয়া:

(১) কোম্পানি ৫০ হাজার টাকা আবেদন ফি, যাবতীয় ডকুমেন্টসের কপি একসঙ্গে সাব-রেগুলেশনের (২) এর অধীন উল্লেখ করে কমিশনের নিকট আবেদনপত্র জমা দেবে (সিডিউল ‘এ’ এর এনেক্সার-৮)।

(২) কোম্পানি তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/ অথরাইজড ব্যক্তির মাধ্যমে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টস যথাযথভাবে সত্যায়িত করে জমা দেবে।

(ক) রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজে অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) দ্বারা সত্যায়িত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের কপি।

(খ) কোম্পানি এবং কোম্পানির বিদ্যমান স্পন্সরদের সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল।

(গ) রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজে অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) দ্বারা সত্যায়িত সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন এবং সার্টিফিকেট অব কমন্সমেন্ট অব বিজনেস এর কপি।

(ঘ) বিগত ৫ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন।

(ঙ) মেম্বার/শেয়ারহোল্ডারদের তালিকার সঙ্গে তাদের শেয়ারহোল্ডিংয়ের বিবরণ।

(চ) রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজে অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) দ্বারা সত্যায়িত রিটার্ন অব অ্যালটমেন্ট শেয়ারের কপি।

(ছ) যদি মর্গেজ দলিল থাকে তাহলে এর সঙ্গে বিদ্যমান মেটারিয়ালস এগ্রিমেন্টস।

(জ) কোম্পানির ঋণ সংক্রান্ত বিষয় এবং যদি ঋণ খেলাপির বিষয়ে কোনো তথ্য থাকে তাহলে সেগুলো।

(ঝ) ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন এবং ট্যাক্স পেয়ার’স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিন)।

(ঞ) দ্য এক্সচেঞ্জ কর্তৃক প্রেসক্রাইবড (সিডিউল ‘এ’ এর এনেক্সার -৯) অনুযায়ী পরিচালকদের ডিউ ডিলিজেন্স সার্টিফিকেট।

(ট) ব্যাংক/ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের প্রাইমারি রেগুলেটরদের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট।

(ঠ) তফসিল ‘এ’, পরিশিষ্ট -৩ এর প্রেসক্রাইবড অনুযায়ী সাবমিশন অব আন্ডারটেকিং এবং পেমেন্ট অব ফিস এর ফরম।

(ড) এক্সচেঞ্জে লিস্টিংয়ের উদ্দেশ্যে পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশনস এবং জেনারেশন মিটিংয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনস।

(ঢ) কমিশনের রেজিস্টিকৃত ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির দ্বারা ক্রেডিট রেটিং রিপোর্ট যার মিনিয়াম ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড হবে দীর্ঘমেয়াদে সিঙ্গেল ‘এ’ অথবা সমতুল্য রেটিং এবং স্বল্প মেয়াদে এসটি-২ অথবা সমতুল্য রেটিং।

(ণ) দ্য এক্সচেঞ্জের তফসিল ‘এ’, পরিশিষ্ট -১০ এর প্রেসক্রাইবড ফরম্যাট অনুযায়ী ইনফরমেশন ডকুমেন্ট।

(ত) তফসিল ‘এ’, পরিশিষ্ট -১১ অনুযায়ী স্পন্সর/পরিচালকদের ব্যক্তিগত বিনাশর্তের আন্ডারটেকিংস (নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প)।

(থ) শেয়ার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের রেজুলেশন।

(৩) আবেদন গ্রহন করার পর দ্য এক্সচেঞ্জ ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দূর করার জন্য ইস্যুয়ারকে জানাবে এবং কমিশনে এক কপি জমা দিবে। যদি আবেদনে কোনো ত্রুটি থাকে তাহলে ইস্যুয়ার দ্য এক্সচেঞ্জ থেকে যেদিন চিঠি পাবে সেদিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা সংশোধন করে জমা দেবে।

(৪) এই রেগুলেশনে যেসব প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর পরিপূর্ণ করার পর দ্য এক্সচেঞ্জ কমিশনের জ্ঞাতার্থে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইস্যুয়ারের শেয়ার তালিকাভুক্ত করবে।

(৫) যদি আবেদনকারী কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আবেদন করার ৬০ দিনের মধ্যে কমিশনের জ্ঞাতার্থে দ্য এক্সচেঞ্জ কারণ দেখিয়ে তালিকাভুক্তির আবেদন বাতিল করে দেবে।

(৬) তালিকাভুক্তির আবেদনের ক্ষেত্রে ইস্যুয়ার ও দ্য এক্সচেঞ্জের মধ্যে সকল ধরণের যোগাযোগ কমিশনের জ্ঞাতার্থে হতে হবে।

পরবর্তী পর্বে থাকছে, “ পাবলিক অডার ডুকমেন্টস প্রকাশ, শেয়ার নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য”

০১. প্রথম পর্বের লিঙ্ক 

০২. দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক

০৩. তৃতীয় পর্বের লিঙ্ক

০৪. চতুর্থ পর্বের লিঙ্ক:

০৫. পঞ্চম পর্বের লিঙ্ক:

০৬. ৬ষ্ঠ পর্বের লিঙ্ক:

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top