শেয়ারবাজার শিক্ষা: বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সাধারণত শেয়ারহোল্ডাররা ঝুঁকির চূড়ান্ত বাহক, যদি কোন কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায় বা অবসায়ন হয় তাহলে শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের সম্পূর্ণ বা একটি অংশ হারানো সম্ভাবনা থাকে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যদি কোন কোম্পানির লাভ কমে যায় তবে লভ্যাংশ বিতরণ এবং শেয়ারের দাম আরো পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও অন্যান্য কারণে কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা কমে গেলে বাজার মূল্য পড়ে যায়। ফলে শেয়ারহোল্ডাররাই ঝুঁকির চূড়ান্ত ভার বহন করে থাকে।

ঋণদাতারা লভ্যাংশ পরিশোধের পূর্বেই মুনাফার অধিকারী হয়ে থাকে বিদায় ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে ঋণদাতাদের আয় ঝুঁকি অনেক কম। এছাড়াও কোম্পানির অবসায়ন হলে ঋণদাতারা বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ

  • আপনি কি বেশি ঝুঁকি নিতে চান (Risk taker) ?
  • আপনি কি কম ঝুঁকি নিতে চান (Risk Averser)?

এছাড়া আপনার সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা, বয়স, সঞ্চয়ের পরিমাণ, সম্পদের পরিমাণ, আয়ের উৎস, অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে ঝুঁকি গ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঝুঁকি কয়েকভাবে উদ্ভূত হতে পারে

ক) কোম্পানির স্বল্প আয়ের কারণে মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে লভ্যাংশ না পাওয়া বা কম পাওয়ার সম্ভাবনা এবং শেয়ারের দাম কমে গেলে।

খ) লাভ এবং লভ্যাংশ প্রত্যাশার চেয়ে কমে হলে।

গ) কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে বা দেউলিয়া হলে।

ঘ) অন্যান্য কারণে যেমন: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি।

যে সকল কোম্পানির প্রতি বছর লাভ, লভ্যাংশ এবং শেয়ারের মূল্য ব্যাপক উঠা-নামা করে, সে সকল কোম্পানির ঝুঁকির সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে।

ঝুঁকির প্রকারভেদ

অপদ্ধতিগত ঝুঁকি

বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছুটা ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। সিকিউরিটিজ/বিনিয়োগের বৈচিত্রতা দ্বারা যে ধরণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব তা অপদ্ধতিগত ঝুঁকি।

পদ্ধতিগত ঝুঁকি

বিনিয়োগের বৈচিত্র আনয়নের মাধ্যমে এই ঝুঁকি দূর করা যায় না। উদাহরণ- নতুন আইন প্রণয়নের ফলে কোন একটি খাতে ব্যবসায়ে ধ্বস নামল। ঐ খাতের কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ থাকলে, এটা বিনিয়োগকারীর জন্য একটি পদ্ধতিগত ঝুঁকি। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পদ্ধতিগত ঝুঁকি প্রাসঙ্গিক। বিনিয়োগকারীদের এই ধরণের ঝুঁকি সম্পর্কে সজাগ থাকা উচিত, কারণ এই ধরণের ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী সকল কৌশল অবলম্বন করেও ঝুঁকি কমাতে পারে না। পদ্ধতিগত ঝুঁকি এবং রিটার্ণ পরিমাণ CAPM পদ্ধতির মাধ্যমে (মূলধন সম্পদ মূল্য মডেল) নিরুপণ করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top