ডেডলাইন ৩১ ডিসেম্বর: করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড সংশোধনে ফের চিঠি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশিত করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড পরিপালনের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডে বেশকিছু বিতর্কিত নির্দেশনা রয়েছে যা পরিপালনে কোম্পানিগুলোকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আর এ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের জন্য চিঠি দিয়েছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। কিন্তু বিএপিএলসি’র চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যে কারণে সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে ফের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত ২০ ডিসেম্বর বিএপিএলসি’র অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিগণ করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড সংশোধনের জোর তাগিদ দিলে গত ২৪ ডিসেম্বর কমিশনে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ফের চিঠি দেয় বিএপিএলসি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড অনুযায়ী, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যা ন্যুনতম ৫ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন। এছাড়া প্রতি ৫ জন পরিচালকের একজন স্বাধীন পরিচালক রাখার বিধান করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআর) প্রণীত বীমা আইনে পরিচালকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ জন রাখার কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে ১২ জন স্পন্সর ডিরেক্টর, ৬ জন পাবলিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এবং দুই জন স্বাধীন পরিচালক রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ১৫ (৯) ধারায় বলা হয়েছে, “আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন অথবা কোন ব্যাংক-কোম্পানীর সংঘস্মারক বা সংঘবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার ১(এক) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর ৩ (তিন) জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ কোন ব্যাংক-কোম্পানীতে সর্বমোট ২০ (বিশ) জনের অধিক পরিচালক থাকিবে না:”। অর্থাৎ ব্যাংক কোম্পানির আইনে সর্বোচ্চ ২০ জন পরিচালক রাখার বিধান রয়েছে যেখানে স্বতন্ত্র পরিচালকদের সংখ্যা ৩ জন রাখতে বলা হয়েছে। তালিকাভুক্ত অন্যান্য কোম্পানির বিএসইসির কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড পরিপালনে সমস্যা না হলেও ব্যাংক-বীমা কোম্পানিগুলোর এই কোড পরিপালনে বিপত্তি হয়েছে।

যদি কোনো বীমা কোম্পানির ২০ জন পরিচালক হয় তাহলে বিএসইসির কোড অনুযায়ী ৪ জন স্বাধীন পরিচালক রাখতে হবে। অন্যদিকে আইডিআরএ’র আইন অনুযায়ী দুই জন স্বাধীন পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ জন রাখার বিধান রয়েছে। তাই তালিকাভুক্ত ব্যাংক-বীমা কোম্পানিগুলো তাদের প্রাইমারি রেগুলেটরদের বিধান মানবে নাকি বিএসইসি’র আইন পরিপালন করবে এ নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নানা সমস্যায় রয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়টির সমাধান করার আহবান জানিয়েছেন কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এর সেক্রেটারি জেনারেল মো: আমজাদ হোসেন শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, বিএসইসি প্রণীত করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড পরিপালনের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এই কোডে যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে তার সংশোধন করা হয়নি। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড প্রণয়নের আগে যে ড্রাফট তৈরি করা হয়েছিল সেখানে বলা হয়েছিল ব্যাংক, নন-ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউট এবং বীমা কোম্পানিগুলো তাদের প্রাইমারি রেগুলেটর অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডআরএ’কে অনুসরণ করবে। এই শর্তটি আগের করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনে উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে প্রণীত কোডে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে ব্যাংক-বীমা কোম্পানিগুলোর করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড পরিপালনে বিপত্তি হয়েছে। যদি করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডে এই শর্তটি জুড়ে দেওয়া হয় যে ব্যাংক,নন-ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি তাদের প্রাইমারি রেগুলেটরকে অনুসরণ করবে তাহলে আর কোনো বাধা থাকে না। এ ব্যাপারে বিএপিএলসি’র পক্ষ থেকে বিএসইসিতে প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। যে কারণে ঐ প্রস্তাবের ফিডব্যাক জানতে পুনরায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান আমজাদ হোসেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top