শেয়ার লেনদেনে গঠিত হচ্ছে নতুন প্লাটফর্ম: সিসিবিএল নিবন্ধনে আরজেএসসি’তে ডকুমেন্টস জমা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সব সিকিউরিটিজের (শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিবেঞ্চার প্রভৃতি) লেনদেন নিষ্পত্তির (সেটেলমেন্ট) জন্য স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) গঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের পর গতকাল সিসিবিএল নামে কোম্পানি নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) জমা দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে আরজেএসসি’র কাছে সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে কোম্পানিটি নিবন্ধন হবে। নিবন্ধনের পর সিসিবিএল এর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৪৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে ডিএসই’র অধীনে। এছাড়া ২০ শতাংশ সিএসই’র কাছে, ১৫ শতাংশ ব্যাংকের কাছে, ১০ শতাংশ সিডিবিএলের কাছে এবং বাকি ১০ শতাংশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের কাছে শেয়ার থাকবে। ১৫ শতাংশ ব্যাংক শেয়ারের মধ্যে ১২ ব্যাংক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকবে। ব্যাংকগুলো হলো: অগ্রনী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের সংশোধনীতে ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি সংযোজিত হয়। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই ও সিএসই) পৃথক ‘ক্লিয়ারিং বিভাগ’-এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। এছাড়া সরকারি বন্ডের লেনদেন নিষ্পত্তি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সিসিবিএল গঠন করা হলে এসব দায়িত্ব তাদের কাছে চলে যাবে। শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে অর্থ বা শেয়ার সংগ্রহ করে বিক্রেতাকে অর্থ এবং ক্রেতাকে শেয়ার সরবরাহ নিশ্চিত করাই ক্লিয়ারিং কোম্পানির মূল কাজ। এক্ষেত্রে ক্রেতার পক্ষে ব্রোকারেজ হাউজ অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে ক্লিয়ারিং কোম্পানি বিক্রেতাকে অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়।

জানা যায়, ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের মতো সিসিবিএলেও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান হতে হবে, যাদের সিসিপি, এক্সচেঞ্জ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি ডিমিউচুয়ালাইজড আকারে গঠন করা হবে অর্থাৎ এর মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা থাকবে। এ কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে নিট সম্পদ কখনই পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না। তবে কমিশন সময়ে সময়ে নির্ধারিত ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে পারবে।

সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির নিবন্ধনের যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ আইন অনুসারে গঠিত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এবং সংঘ স্মারকে সিসিপি হিসেবে সব ধরনের সিকিউরিটিজের ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। তাছাড়া সিসিপির পরিশোধিত মূলধনের ৪৯ শতাংশের বেশি শেয়ার কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারবে না এবং স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক একক কিংবা যৌথভাবে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। তাছাড়া কোনো ঋণখেলাপি এ কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন না।

সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির শেয়ার ধারণের বিষয়ে বলা হয়েছে, মোট ইস্যুকৃত এবং পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ শেয়ার এক্সচেঞ্জসমূহ যৌথভাবে ধারণ করতে পারবে। তবে কোনো এক্সচেঞ্জ এককভাবে ৪৯ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার যৌথভাবে অথবা এককভাবে ধারণ করতে পারবে। তাছাড়া সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শেয়ার ব্যাংকগুলো যৌথভাবে ধারণ করতে পারবে। তবে এককভাবে কোনো ব্যাংক ২ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানির শেয়ার অজড় অবস্থায় বরাদ্দ করা হবে। ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানির পর্ষদে ১৪ জন পরিচালক থাকবেন। এর মধ্যে সাতজন হবেন স্বতন্ত্র পরিচালক। স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তিনজন, ডিপোজিটরি থেকে একজন, ব্যাংক থেকে একজন এবং কৌশলগত বিনিয়োগকারী থেকে একজন পরিচালক মনোনীত হবেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকার বলে পর্ষদে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় স্বতন্ত্র পরিচালকগণের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের মেয়াদ চার বছর করা হয়েছে। ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্টে অংশগ্রহণকারীর যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, সেলফ ক্লিয়ারিংয়ে শুধু স্টক ব্রোকার বা স্টক ডিলাররা অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে পূর্ণ ক্লিয়ারিংয়ে শুধু উচ্চ নিট সম্পদ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান, যারা সব ধরনের সেটেলমেন্ট ঝুঁকি বহন করতে পারবে, তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ব্রোকার বা ডিলার এতে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন। এই শ্রেণীর ক্লিয়ারিং অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থাকতে হবে।

অংশগ্রহণকারীর নিবন্ধন ফি পূর্ণ ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং সেলফ ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাছাড়া সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি, লেনদেনের ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট-সংক্রান্ত সকল তথ্য ও উপাত্ত তার কার্যালয় থেকে ভিন্ন ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত অন্তত দুটি ভিন্নস্থানে ন্যূনতম ১০ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top