আইপিও থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা তোলার অনুমতি পেয়েছে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লি:। আর এ টাকা থেকে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবে কোম্পানিটি।

গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ এ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৭০তম সভায় কোম্পানিটিকে ১০ টাকা ইস্যু মূল্যের ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়।

কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাস থেকে জানা যায়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদে ২৮ কোটি ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ২২৮ টাকা ঋণ রয়েছে। যার মুনাফার হার (সুদ হার) ১২ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ। কোম্পানির বিএমআরই প্রজেক্টের জন্য এই ঋণ নেয়া হয়েছিল। আর এই ঋণ পরিশোধের চলতি অংশ ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮০৭ টাকা। আইপিও টাকা দিয়ে এই চলতি অংশ পরিশোধ করা হবে।

চলতি অংশ পরিশোধের পর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২১ টাকা। মাসিক কিস্তি ভিত্তিতে ৫ বছর মেয়াদি এই ঋণ ২০১৬ এর ডিসেম্বর মাসে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোম্পানিটির ৬ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৮২৪ টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের ২ কোটি ৯৭ লাখ ৮ হাজার ৩৭২ টাকা; আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৯ টাকা এবং সিএপিএম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এন্ড ফাইন্যান্সের কাছে ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩ টাকা ঋণ রয়েছে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মোট ঋণের চলতি অংশ ১ কোটি ৫২ লাখ ১ হাজার ৯৮ টাকা। এই চলতি অংশ পরিশোধের পর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬২৬ টাকা।

এদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে স্বল্প মেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২৬ কোটি ১৪ লাখ ৭ হাজার ১০৪ টাকা।

আইপিও’র বাকী টাকা থেকে প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয় স্থাপন, ভবন ও সিভলি ওয়ার্কে খরচ হবে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আইপিও ফান্ড পাওয়ার ১২ মাসের মধ্যে প্রজেক্টের কাজ শেষ করা হবে। আর আইপিও বাবদ খরচ হিসাব করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জানা যায়, ২০১৪ সালে উৎপাদন শুরু করা কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৭০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা। ২০১৮ এর জুনে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

আইপিও পরবর্তী কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৬০ কোটি টাকা। এর ৩০.০৭ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে, ১৬.৬৭ শতাংশ থাকবে প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে থাকবে ৪৬.৬০ শতাংশ। বাকী শেয়ার মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও বিদেশি (এনআরবি) বিনিয়োগকারীর কাছে। উল্লেখ্য, উত্তরা ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছে কোম্পানিটির ২০ লাখ শেয়ার রয়েছে।

৩০ জুন, ২০১৮ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষা হিসাবে, কোম্পানিটি ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৪২ টাকার পণ্য বিক্রি করে কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছে ৪ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০২ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ০.৮৮ টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা হিসাব করে। এই সময়ে শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য(এনএভি) হয়েছে ১২.০৬ টাকা।

আগামী তিন বছরে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রি শতকোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন এর কর্মকর্তারা।

কোম্পানিটি মূলত কপার বার, স্ট্রিপ, ওয়্যার ও টিউব উৎপাদন করে। ৩০ জুন, ২০১৮ এ কোম্পানিটিরি মোট আয়ের ৩৮.৪৭ শতাংশ এসেছে কপার বার থেকে; ১৭.৭৭ শতাংশ এসেছে কপার স্ট্রিপ; ১৫.৬৬ শতাংশ এসেছে কপার ওয়্যার এবং ১১.৩৩ শতাংশ এসেছে কপার টিউব বিক্রি করে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এমটিভি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

আপনার মন্তব্য

Top