ভালো পারফর্মই একটি গতিশীল বাজার উপহার দিতে পারে

নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। নির্বাচনের আগে বাজারকে ঘিরে যত হতাশা ছিলো সব যেন মুহূর্তের মধ্যেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। তলানিতে পড়ে থাকা শেয়ারের দর মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। সাইডলাইনে বসে থাকা পোর্টফোলিও ম্যানেজাররা বিনিয়োগে সক্রিয় হয়েছেন। পুরনো বিনিয়োগকারীরা নতুন ফান্ডের মাধ্যমে শেয়ার দর সমন্বয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে গত ৩১ ডিসেম্বরে যেখানে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যার পরিমাণ ছিলো ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯৭টি, সেখানে এখন বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ১১ হাজার ২৭৬টি। অর্থাৎ চলতি মাসে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩২ হাজার ৪৭৯টি। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৭টি, জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৩৭টি এবং কোম্পানি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ১৩৫টি।

তলানিতে পড়ে থাকা বাজারকে টেনে তুলতে নীতিনির্ধারণী মহল থেকে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ না নিলেও অর্থমন্ত্রী পরিবর্তনের খবরই যেন বিনিয়োগকারীদের আস্থা যুগিয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ পাড়ায় বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামালের গুণর্কীতি এবং তার আমলে বাজার খারাপ হবে না এমন আশার বানী শোনা যাচ্ছে। সেই আশার বানীতে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। শুধু দেশীয় বিনিয়োগকারী নয় চলতি মাসে প্রবাসী বিনিয়োগকারী অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৪ হাজার ১৫৪টি। অর্থাৎ দেশ-বিদেশ সব জায়গা থেকেই পুঁজিবাজারে টাকা প্রবেশ করছে। বাজার ভালো থাকলে সকলেই ভালো থাকে। আর বাজার ভালো করার জন্য নিত্য নতুন আইন-কানুন প্রণয়নের চেয়ে আস্থা তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেটি অর্থমন্ত্রী পেরেছেন। তবে বাস্তবিক অর্থে শেয়ারবাজারের ভালো-মন্দ সব কিছুই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে। তারা চাইলেই মার্কেটকে গতিশীল করতে পারে। আবার সেল প্রেসার তৈরি করে মার্কেটে কারেকশন করাতে পারে।

বাজারে উত্থান বা পতন যাই হোক না কেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যদি মার্কেট মেকারের ভূমিকা পালন করে তাহলে এই বাজার আর পেছনে যাবে না। বাজারে কিছু বাজে কোম্পানি ছাড়া ব্লু চিপসের অনেক কোম্পানি রয়েছে যেগুলো বাজারকে ধরে রাখতে সক্ষম। এছাড়া এ মার্কেটে বড় বড় কোম্পানির সংখ্যা যত বাড়বে তত মার্কেট শক্তিশালী হবে। শেয়ারের বাজারের একটি বড় গুণ (বদগুণও বলা চলে), এখানে কোনো পার্মানেন্ট হিরো নেই। অমিতাভ, শাহরুখ, সালমান, আমির খানদের যত বয়সই হোক না কেন, এখনো তাদের ছবি দেখতে দর্শক ভিড় জমায়। কিন্তু শেয়ারবাজারে এমন কোনো শেয়ার নেই যে বা যারা দিনের পর দিন বিনা পারফরমেন্সে টিকে থাকতে পারে। একটা কি দুটো কোয়ার্টারে খারাপ করলেই কেল্লা ফতে হয়ে যায়। এখানে কেউ চিরস্থায়ী রাজ চালাতে পারে না। ভাবখানা এমন, হয় পারফর্ম কর, নয়তো কাটো। এ মার্কেটকে ভালো রাখতে হলে বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে, কোম্পানি, সিকিউরিটিজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সকলকেই পারফর্ম করতে হবে। আর সকলের সম্মিলিত ভালো পারফর্মই একটি গতিশীল বাজার উপহার দিতে পারে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top