ডি-লিস্টেড নয়: কোম্পানির সুশাসন জরুরি

প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিউজে ১৫ কোম্পানি রিভিউ প্রসেসে রয়েছে বলে খবর প্রচার করা হয়। এসব কোম্পানি ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশন,২০১৫ এর ৫১ (১) (এ) ধারায় রিভিউ করা করা হচ্ছে। আর এই ধারায় ডিএসইকে ব্যর্থ কোম্পানিকে ডি-লিস্টেড বা তালিকাচ্যুত করা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো: বেক্সিমকো সিনথেটিকস, দুলামিয়া কটন, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ইমাম বাটন, জুট স্পিনার্স, কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাষ্ট্রিজ, মেঘনা পেট ইন্ডাষ্ট্রিজ, সমতা লেদার কমপ্লেক্স , সাভার রিফ্যাক্টরীজ, শাইনপুকুর সিরামিকস, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, সোনারগাঁও টেক্সটাইল এবং ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক।

মূলত মডার্ন ডাইং ও রহিমা ফুডকে তালিকাচ্যুত করার পর থেকেই রিভিউ প্রসেসিংয়ে থাকা উল্লেখিত ১৫ কোম্পানিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর টাকা এসব কোম্পানিতে পড়ে রয়েছে। মডার্ন ডাইং ও রহিমা ফুডের বিনিয়োগকারীরা নিরুপায় হয়ে বসে রয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আরাম আয়েশেই ব্যবসা বানিজ্য চালাচ্ছে। এখন কোম্পানির পরিচালকদের ব্যর্থতার দায়ভার বিনিয়োগকারীরা বহন করছে যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।

মাথাব্যাথার ওষুধ হিসেবে পুরো মাথাকেই কেটে ফেলেছে ডিএসই। বাকি কোম্পানিগুলোরও একই ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।  কিন্তু ডি-লিস্টিং কোনো সমস্যার সমাধান নয়। তালিকাচ্যুত না করে বরং কোম্পানির সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে কোম্পানি তথা বিনিয়োগকারীরা ভালো থাকবে-এই সাধারণ জ্ঞানটুকু রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।

যদি তালিকাচ্যুতির পথ অবলম্বন করা হয় তাহলে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী অকল্পনীয় ক্ষতির মুখে পড়বে যার দায় নেওয়া থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ অস্বীকার করতে পারবে না। কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখা স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

যে সমস্ত কোম্পানি লভ্যাংশ দিচ্ছে না সেগুলোর ব্যবসায় সুফল বয়ে আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)
থেকে ভালো পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া, কোম্পানির পরিচালকদের সাথে সব সময় যোগাযোগ স্থাপন করা তথা তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসলে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে না।

কোম্পানির পরিচালকদের দায়বদ্ধতা বাড়লে কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের মনোবল যেমন চাঙ্গা থাকবে তেমনি উক্ত কোম্পানির ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

যেসব কোম্পানি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বছরের পর বছর প্রতারণা করে আসছে তাদের অনতিবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। অসাধু পরিচালকদের আইনের আওতায় না এনে কোম্পানি বা এর সঙ্গে জড়িত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শাস্তি দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

যেসব কোম্পানি ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না তাদের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা উত্তোরণের পথ খুঁজতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে কোম্পানির সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

 

মোহাম্মদ মামুন
বিনিয়োগকারী
রয়েল ক্যাপিটাল, ফেনী শাখা, ফেনী।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top