ফিরে আসতে পারে বিলুপ্ত ডাইনোসর!

শেয়ারবাজার ডেস্ক: পৃথিবীতে বুকে ফের দাপিয়ে বেড়াবে ভয়ংকর মাংসাশী টিরানোসরাসরা? বর্তমান সময়ের দু-একটি আবিষ্কারে সেই সম্ভাবনা বা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন হয়তো অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে। সত্যিই কি তাহলে ফিরে আসতে যাচ্ছে কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া সেই দৈত্যাকার ডাইনোসররা?

জানা গেছে, জুরাসিক যুগের একটি গাছের কোটরে থাকা হলদেটে-বাদামি রঙের অ্যাম্বারের মধ্যে মিলেছে মশার জীবাশ্ম (ফসিল), যার মধ্যে পাওয়া গেছে প্রাণ সৃষ্টির প্রধান বীজ ডিএনএ।

শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নেই, ডাইনোসরের আরেক জীবাশ্মে হদিস মিলেছে রক্তনালি ও কোলাজেন নামের বিশেষ এক ধরনের প্রোটিনের। ফলে সেই সব থেকে কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসরদের ফিরিয়ে আনা যাবে কি না- সেই কৌতূহলের জন্ম হয়েছে।

তবে একেবারেই সেটি অসম্ভব, বিজ্ঞানীরা কিন্তু সে কথা বলছেন না। ‘আজগুবি’ বলে উড়িয়েও দিচ্ছেন না সেই সম্ভাবনা বা আশঙ্কা। কেননা, বিবর্তনের নিয়মেই ডাইনোসররা হারিয়ে গেছে। এরপর বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই উন্নততর প্রাণের জন্ম ও বিকাশ হয়েছে পৃথিবীতে।

ব্রিটেনের নর্দাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ববিদ জামাল নাসিরের কথা মতে, ‘অসম্ভব নয়। কারণ, বিবর্তন প্রক্রিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নেই। এমন নয় যে তা শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বলা যায় না, তা শুধু পূর্ব থেকে পশ্চিম বা উত্তর থেকে দক্ষিণে গড়িয়ে চলেছে। কোন দিকে যাবে বিবর্তনের রথের চাকা, তা আগে থেকে ঠিক করা থাকে না। তার গতিপথ একেবারেই পরিকল্পিত নয়। বরং তা ভীষণ পাগলাটে। তাই জীবাশ্ম থেকে ডাইনোসরদের একেবারেই ফিরিয়ে আনা যাবে না, এটা মনে করি না। সেই সম্ভাবনাটা কমও নয়।’

জিনতত্ত্ববিদ জামাল নাসির এটাও জানান, সেই ডাইনোসরদের ফিরে আসার জন্য যথাযথ পরিবেশেরও প্রয়োজন। আমাদের জিনোমে আচমকা একটা বড়সড় রদবদল ঘটে গেলেই সেটা সম্ভব হয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ভার্টিব্রেট প্যালিয়েন্টোলজিস্ট সুসি মেডমেন্ট জিনতত্ত্ববিদ নাসিরের ওই বক্তব্য অবশ্য মানতে রাজি নন।

তিনি বলেছেন, ‘ঠিকই অ্যাম্বারের মধ্যে ডাইনোসর যুগের মশার জীবাশ্ম মিলেছে। কিন্তু সেখানে মশার জীবন্ত কলার সন্ধান মেলেনি। ফলে, সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে, দেখা যায়নি। তাই সেখান থেকে ডাইনোসরদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

সুসি বলেছেন, ‘এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণীর যে প্রাচীনতম ডিএনএ’র সন্ধান মিলেছে, তার বয়স ১০ লাখ বছর। আর ডাইনোসররা অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে। ডাইনোসরদের ফিরিয়ে আনতে গেলে ততটা প্রাচীন ডিএনএ’র হদিশ পেতে আমাদের। তা হলে হয়তো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বহু বহু কোটি বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ডাইনোসরদের।’

তবে অন্যত্র ডাইনোসরের জীবাশ্মে রক্তনালী ও কোলাজেন প্রোটিন মিলেছে। কিন্তু সেখানেও ডাইনোসরদের আদতে ডিএনএ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, কোলাজেন তুলনায় বেশি দিন অবিকৃত থাকতে পারলেও। ডিএনএ’র পক্ষে তা সম্ভব নয়। কিছু দিনের মধ্যেই ডিএনএ জল আর সূর্যালোকে একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top