প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ১০৪৩ জনের কাছে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের ব্যাংকগুলোতে বড় আমানতকারী অর্থাৎ যাদের হিসাবে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে ২০১৮ এর সেপ্টেম্বর শেষে তাদের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩। তাদের কাছে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা রয়েছে। যা মোট আমানতের ১৪.১২ শতাংশ। ওই বছরের জুন শেষে এমন আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪ জন। তিন মাসের ব্যাবধানে বড় আমানতকারীর সংখ্যা ৩৯জন বেড়েছে।

বিভিন্ন আকারের আমানতের হিসাব নিয়ে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে গত সেপ্টেম্বর ভিত্তিক পরিসংখ্যান নিয়ে।

এই ১ হাজার ৪৩ হিসাবের মধ্যে সরকারী ব্যাংকে রয়েছে ৪২২টি হিসাব। সেখানে টাকার পরিমাণ ৭২ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা।অর্থাৎ সরকারী ব্যাংকের মোট আমানতের ২৬.৩১ শতাংশই তাদের কাছে।

বেসরকারী ব্যাংকে এমন আমনতকারীর হিসাব সংখ্যা ৪৯৭। সেখানে টাকার পরিমাণ ৫৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।

ইসলামী ব্যাংকে বড় আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা ১০৪। সেখানে টাকার পরিমাণ ১০ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।

বিদেশি ব্যাংকে বড় আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা ১০৮। সেখানে টাকার পরিমাণ ১৫ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা।

ওই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ ১০ লাখ ৪০ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যাবধানে আমানত ৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

ব্যাংকিং খাতে শুধু এক কোটি এক টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার ওপরে মজুদ রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৭২ হাজার ৮১২। এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অর্থ মজুদ রয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। আর ৭৫ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট আছে আরো ৩৬ হাজার ৭১২টি। এর বিপরীতে অর্থমজুদ রয়েছে ৩৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে এক শ্রেণীর মানুষ সম্পদশালী হচ্ছে। এর ফলে সমাজে ধনী গরিবের বৈষম্য বেড়ে চলছে। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, বিগত দুই বছরে ভোগ্যপণ্যের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মানুষ আয়ের সাথে ব্যয় মেলাতে পারছে না। যে পরিমাণ আয় করছে সংসারের ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। বাড়তি ব্যয় মেটাতে মানুষ তাদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে।

তাদের মতে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থই হলো দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে গেছে। এ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য দারিদ্র বিমোচনমুখী নীতি বেশি করে গ্রহণ করতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top