ফিক্সড ও বুকবিল্ডিং উভয় পদ্ধতিতেই তালিকাভুক্ত হবে স্বল্প মূলধনী কোম্পানি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: মূল মার্কেটে প্রবেশের সুযোগ রেখে স্বল্প মূলধনী কোম্পানি নিয়ে তৈরিকৃত আইনের গেজেট প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার বাই স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানিজ) রুলস,২০১৮ নামে তৈরিকৃত আইনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলো।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিএসইসি’র প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম নামে আলাদা মার্কেট গঠন করা হবে। যেসব কোম্পানি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) এর মাধ্যমে ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা ও ৩০ কোটির নিচে পরিশোধিত মূলধন সংগ্রহ করবে সেগুলোকে এই প্লাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হবে। স্বল্প মূলধনী কোম্পানি ফিক্সড ও বুকবিল্ডিং উভয় পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে।

কোয়ালিফাই ইনভেস্টর বলতে ইলিজিবল ইনভেস্টর, মার্কেট মেকার, তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ইস্যুয়ার, আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী যাদের নিট সম্পদ ন্যূনতম ১ কোটি টাকা এবং কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য যেরকম আইপিও’র ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তির জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিউআইও’ হচ্ছে যেসব স্বল্প মূলধনী কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে চাইবে তারা ইস্যু ম্যানেজারের মাধ্যমে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরদের সিকিউরিটিজ (শেয়ার) ইস্যুর আহবান জানাবে।

যেসব স্বল্প মূলধনী কোম্পানি ফেসভ্যালুতে তালিকাভুক্ত হতে চাইবে তারা ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে এবং ফেসভ্যালুর অতিরিক্ত অর্থ অর্থাৎ প্রিমিয়াম নিতে চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে বুক বিল্ডিংয়ে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কিআইও’র এর পূর্বে ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে।

কিআইও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের পর স্বল্প মূলধনী কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটির নিচে থাকতে হবে। পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি বা তার অধিক হলেই কোম্পানি কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জকে অনতিবিলম্বে অভিহিত করবে এবং দুই বছরের মধ্যে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করবে।

বিএসইসি’র প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ইস্যু ম্যানেজমেন্ট ফিস সর্বোচ্চ ফিক্সড প্রাইসের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং বুক বিল্ডিংয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আন্ডাররাইটিং ফি মোট অ্যামাউন্টের ০.২৫ শতাংশ, কমিশনে আবেদন ফি ৫ হাজার টাকা (অ-ফেরতযোগ্য), কনসেন্ট ফি ১০ হাজার টাকা, লিস্টিং ফি এবং অন্যান্য ফি (স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানির লিস্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী) নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইস্যুয়ারের সাধারণ শেয়ার ১ বছরের লকইন থাকবে। অন্য টাইপের সিকিউরিটিজ সাধারণ শেয়ারের রূপান্তর করা হলে সেক্ষেত্রে ১ বছরের লকইন থাকবে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিংয়ের সময় হবে ১২০ ঘন্টা। কোনো কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি ধারণ করতে পারবে না বলে কমিশনের গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top