এমারেল্ড অয়েল বিনিয়োগকারীদের নি:স্ব করে দেবে

এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যাদের হাতে শেষ পর্যন্ত এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারটি থাকবে তারা জ্বলে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। অতিতের ইতিহাস ঘাঁটলে এই রকম অনেক কোম্পানিই পাওয়া যাবে যে গুলো এক সময় বাজারে তালিকাভুক্ত ছিল কিন্তু এখন তাদের অস্তিত্ব নেই। তবে বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার গুলো রয়েই গেছে যার মূল্য হতে পারে শুধুই বিনিয়োগকারীদের চোখের পানি। যেমনঃ পদ্মা সিমেন্ট, মার্ক বিডি, প্যারাগন লেদার সহ নাম উল্লেখ করা যাবে এমন প্রচুর কোম্পানি রয়েছে।

একটু লক্ষ করলেই দেখবেন ২০১৭ সালের মে মাসের পর থেকে এমারেল্ড অয়েলের কোন নিউজ আসেনি ডিভিডেন্ড তো অনেক দূরের কথা। নিউজ দেয়ার জন্য একজন ব্যক্তির দরকার, দুঃখ জনক হলেও সত্য কোম্পানিতে সেই একজন ব্যক্তি পর্যন্ত নেই। এমারেল্ড অয়েলের প্রডাক্ট রাইস ব্র্যান অয়েল “স্পন্দন” বাজারে নেই প্রায় ২ বছর হল। শেরপুরে অবস্থিত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকতে থাকতে ধুলা পরে গেছে।

বাজারের একটি গুজব প্রায়ই শোনা যাচ্ছে এমারেল্ড অয়েলের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বুজবেন এটি সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলা হতো সরকারী ব্যাংক গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাল অবস্থা বেসিক ব্যাংকের। বর্তমানে সেই বেসিক ব্যাংক ডুবন্ত ব্যাংক। বেসিক ব্যাংক অর্থ কেলেল্কারি নিয়ে যে হৈ-চৈ পরে গিয়েছিল তার একটি হচ্ছে এই এমারেল্ড অয়েলের ঋণ কেলেক্কারি।

এমারেল্ড অয়েল রাইস ব্র্যান অয়েল তৈরি করতো। এই ধরনের একটি রাইস ব্র্যান অয়েল কোম্পানি দিতে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা লাগতে পারে। অথচ এমারেল্ড অয়েলের কাছে বেসিক ব্যাংক সহ মাইডাস ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়ার পাওনা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এখন নিজের কাছে নিজে প্রশ্ন করে দেখুন যেখানে ২০ কোটি টাকা হলেই একটি বড় সর একটি রাইস ব্র্যান অয়েল কোম্পানি দেয়া যায়, সেখানে কোন পাগল ১৫০ কোটি টাকার দায় ভার নেবে। মালিকের কাছে শেয়ার আছে ২৮%। এখন আপনাকেই বলি এই ২৮% শেয়ার নিয়ে কি আপনি ১৫০ কোটি টাকার দায়ভার নেবেন??

এমারেল্ড অয়েলের মালিকপক্ষ যখন দেখেছে ১০ কোটি টাকার বিপরীতে ১৫০ কোটি টাকা বাগিয়ে নিতে পেরেছে তখনই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এমারেল্ড অয়েলের মালিক গত ২ বছর থেকে পালাতক। সে তো এই কোম্পানির শেয়ার বিনে পয়সায় দেয়ার জন্য বসে আছে। পারলে আরও কিছু গিফট থাকবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় গত কয়েক বছরে এমন একজনও পাগল তিনি খুজে পাননি।
অথচ দেখুন আমরা বিনিয়োগকারীরা কতটা আবেগ প্রবন, এই শেয়ার ২৮ টাকা দিয়ে কিনে বসে আছি। যেখানে মালিকপক্ষ বিনে পয়সায় দিতে চাচ্ছে, শুধু ঋণ গুলোর দায়িত্ব আপনার নিতে হবে।

কোন একটি দুষ্ট পক্ষ যদি কোন নিউজ তৈরি করেও ফেলে তাহলে বুঝে নেবেন তা হবে শুধুই আই ওয়াশ, বিনিয়োগকারীদের ধোকা দেয়ার জন্য। বাস্তবে এই কোম্পানির ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তাছাড়া বর্তমান বাজারে অনেক গুলো রাইস ব্র্যান অয়েল কোম্পানি হয়ে গেছে। প্রথম দিকে রাইস ব্র্যান অয়েলের যে চাহিদা ছিল বর্তমানে তা আর আগের মতন নেই। বিনে পয়সায় আলকাতরা খাওয়ার লোক খুজে পাওয়া গেলেও বিনে পয়সার শেয়ার পেয়ে কেউ ঋণ নিজের ঘাড়ে তুলে নেয়ার লোক খুজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। দেরিতে হলেও তারা একটি ভাল সিধান্ত নিয়েছে, বাজার থেকে আবর্জনা দূর করার সিধান্ত। এই ধরনের বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানি গুলো বাজারের জন্য আবর্জনা। যা বিনিয়োগকারীদের শুধু কান্নার সঙ্গী হয়।

গুজবে কান না দিয়ে নিজের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগান। ঠকবেন না। ধন্যবাদ।

তানভীর আহ‌মেদ
‌শেয়ার বি‌নি‌য়োগকারী
উত্তরা, ঢাকা।

‌শেয়ারবাজার‌নিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top