তথাকথিত প্লেসমেন্টের কারণে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকট চলছে দেশের পুঁজিবাজারে। এর ফলে ধারাবাহিকভাবে কমছে মূল্য সূচক। লেনদেন আটকে আছে ৫শ কোটি টাকার ঘরে। চলমান এই মন্দার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া প্লেসমেন্টকে দায়ী করছে অনেকে।

তারা মনে করেন, প্লেসমেন্টের জন্য প্রতিনিয়ত বাজার থেকে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্লেসমেন্টধারীরা কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ৩০০% লাভে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছে। অন্যদিকে তাদের এই লাভ দেখে অন্য অনেক বিনিয়োগকারী সেকেন্ডারি বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনছে। এছাড়া গত কয়েক বছরে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই নগদ লভ্যাংশ বা ক্যাশ ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে টাকা আসছে না।
শুধু stock dividend দিচ্ছে তাতে PP investor আরো বেশী বেশী শেয়ার বাজারে PP করতে পারে। এই মুহুর্তে বেপরোয়া প্লেসমেন্ট ব্যবসা পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

একটি চক্র কৌশলে Gap money per share ৫ থেকে ১০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে; যার কোন রেকর্ড নাই। এই ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল টাকা ফরিয়ারা নিয়ে কেঁটে পরছে।

সাধারণভাবে প্লেসমেন্ট দূষণীয় নয়। আমরা এটি বন্ধের পক্ষেও নই। অনেক সময় ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য জরুরি প্রয়োজনে উদ্যোক্তারা প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করতেই পারেন। কারণ আইপিওতে মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে প্লেসমেন্ট হচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, বরং অসাধু উদ্দেশ্যেই প্লেসমেন্ট হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ১০ কোটি টাকা মূলধনের একটি কোম্পানি রাতারাতি প্লেসমেন্টে ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ফেলে, এর কিছুদিনের মধ্যেই আবার ১৫/২০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য আইপিওতে আসে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তারা বেনামিতে থাকা প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানিতে প্রকৃত বিনিয়োগের কয়েকগুণ বেশি টাকা তুলে নেয়।

তথাকথিতে প্লেসমেন্টের কারণে সাধারণ অনেক মানুষ লোভে ব্যাপক ঝুকে ঝুঁকিতে পড়ছে। ১০০ কোম্পানির প্লেসমেন্ট হয়ে থাকলে তাদের মধ্য থেকে মাত্র ১৫/২০টি আইপিওতে আসতে পারে বৎসরে বাকিগুলো আটকে যাবে। কারণ এসব কোম্পানির মান এত খারাপ যে হিসাব কারসাজি করেও এগুলোকে আইপিওতে আনার উপযোগী করা যাবেনা।

এসব কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা হয়তো কোনোদিনই তাদের টাকা ফেরত পাবেন না। হয়তো হাজার হাজার কোটি টাক আটকা পরবে। তাই বেপরোয়া প্লেসমেন্ট শেয়ার থেকে সাবধান থাকা উচিত।

লেখক: শাকিল রিজভী, শাকিল রিজভী স্টকস লিমেটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,
ডিএসই ব্রোকারেজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক

আপনার মন্তব্য

Top