ছয় মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার চায় স্পন্সররা

LR-GLOBALশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত সবগুলো ফান্ডই ক্রমাগত লোকসান দিচ্ছে। পরিণতিতে এসব ফান্ড থেকে বিনিয়োগকারীরা আশানুরুপ ডিভিডেন্ড পাচ্ছে না। এছাড়া সম্পদ ব্যবস্থাপক এলআর গ্লোবালের দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার জন্য ছয় মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছেন ফান্ডগুলোর স্পন্সররা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এলআর গ্লোবাল পরিচালিত ছয় মিউচ্যুয়াল ফান্ড হচ্ছে; এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান, গ্রীনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড,এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড,ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড,এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং এনসিসি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান।

এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ফান্ডটির স্পন্সররা হচ্ছে এবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, আইডিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পপুলার লাইফ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক।

গ্রীনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সএমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর মার্কেন্টাইল ব্যাংক। ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং কোম্পানি লি:।

এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর আল-আরাফা ইসলামি ব্যাংক। এছাড়া এনসিসি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ফান্ডের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক।

জানা যায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠনের সময় সিড মানি বা মূল টাকা প্রদান করে স্পন্সর। আর ফান্ডগুলোর লোকসানে সর্বাধিক ক্ষতি স্বীকার করছে স্পন্সররাই। এজন্যই স্পন্সররা এখন ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ রাখতে চাচ্ছেন না।

ক্ষতিগ্রস্থ স্পন্সরদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা ফান্ডগুলোর বোঝা আর টানতে চান না। আর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিদ্যমান আইনে ফান্ড থেকে স্পন্সরদের বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

এদিকে আস্থাহীনতায় থাকা স্পন্সরদের অধিকাংশই এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজারের ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

এমনকি বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনেও (বিএমবিএ) বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে কিভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা যায়- সে বিষয়ে স্পন্সরদের সাথে আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক স্পন্সর প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে এলআর গ্লোবাল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্পন্সর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেহাল আহমেদ শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে জানান, ‘ফান্ডগুলোর অবস্থা ভালো না থাকায় আমরা ফান্ডগুলো থেকে বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বোর্ডের সাথে আলোচনা হচ্ছে। আর এই বোর্ডই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে বোর্ড।

তিনি আরো বলেন, এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আমাদের লক-ইন পিরিয়ড এখনো শেষ হয়নি। লক-ইন পিরিয়ড শেষ হলেই আমরা এই ফান্ড থেকে বিনিয়োগ তুলে নেব। আর এলআর গ্লোবালের যেসব ফান্ডে আমাদের লক-ইন পিরিয়ড শেষ হয়েছে সেইসব ফান্ড থেকে আমরা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আর এলআর গ্লোবাল পরিচালিত সব কয়টি ফান্ড থেকে স্পন্সরদের বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বিএমবিএ-তেও আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে জানান, এলআর গ্লোবাল পরিচালিত ফান্ডের যা অবস্থা তাতে আর কোনো নতুন ফান্ডে বিনিয়োগ করা তো দূরের কথা এখন যে ফান্ডটি আছে তা থেকে বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বোর্ডের সাথে আলোচনা চলছে। ফান্ড তৈরির সময় তারা আমাদের অনেক আশা দেখিয়েছে। এখন ডিভিডেন্ড তো দিচ্ছেই না আবার এনএভি কমে যাওয়ায় এখন মনে হচ্ছে আমরা বিনিয়োগ করা টাকাও ফেরত পাবো না।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাজারে তালিকাভুক্ত এলআর গ্লোবালের মেয়াদি ফান্ড রয়েছে ছয়টি। প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিকের অনিরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় সব কয়টি ফান্ডই লোকসানে রয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি গ্রীনডেল্টা এবং এআইবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোন ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এছাড়া প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্য ফান্ডগুলোও একই পথে যাচ্ছে।

ফান্ডগুলোর এ বেহাল দশা এবং স্পন্সরদের অনাস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজিং পার্টনার আদেল আহমেদ শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে বলেন, ‘এমন মন্তব্যর কোনো ভিত্তি নেই। স্পন্সরদের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং তারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ফান্ডগুলোর পারফর্মেন্সের ব্যাপারে সন্তুষ্ট।’

ফান্ডগুলোর ক্রমাগত লোকসানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমাদের বিরুদ্ধে খবর আসায় বাজারে একটা খারাপ ইমেজ তৈরী হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিবাদও জানিয়েছি। এসব খবরের কোনো সত্যতা নেই।’

উল্লেখ্য, অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে বিএসইসি সম্পদ ব্যবস্থাপক এলআর গ্লোবালকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি আগামী এক বছরের জন্য কোন ধরনের বিনিয়োগ স্কীম ও ফান্ড গঠন করতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/তু/সা

আপনার মন্তব্য

Top