বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: এ্যাজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই সূচকে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ করতে সরকারের উর্ধ্বতন মহলসহ বিভিন্ন মহল থেকে বারবার বলে আসলেও কার্যত কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে এখন থেকেই সরকারের আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে বলে মনে করেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতার প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি বিষয়ক আয়োজিত কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের আগত অতিথিদের আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা’র আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির (BSCMS) সহযোগিতায় রাজধানীর রেডিসান ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে “Logistics in Bangladesh: Challenges and Future Readiness” শিরোনামে এ কনফারেন্সটি সম্পন্ন হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন।  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মোঃ আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যকালে সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগি হতে বলেছেন। আমরা তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ি কাজ করছি।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ণ করে চলেছে। বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং আরও উন্নয়ন কাজ চলছে। রাস্তাঘাটসহ অনান্য অবকাঠামো নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। অচিরেই আমরা এ্যাজ অব ডুয়িং বিজনেসে একশর নীচে নেমে আসবো। এছাড়া সাপ্লাই চেইন মেনেজমেন্টেও আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে। এক্ষেত্রে এখনও যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান তা কাটিয়ে উঠতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম আগত অতিথিবৃন্দকে স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি নকীব খান সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক লজিস্টিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের শিল্প ও লজিস্টিক বিশেষজ্ঞবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ আলোচকবৃন্দ বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করেন এবং দ্রুত বিকাশমাণ অর্থনীতির ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার স্বরূপ কেমন হতে পারে; যা অর্থনীতির বিকাশকে আরও তরান্বিত করবে সে সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

নিজেদের প্রেজেন্টেশনে তারা বলেন, সাপ্লাই চেইন মেনেজমেন্টের ক্ষেত্রে এশিয়ার অনান্য দেশের তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এখানে যানযট, বন্দরে পণ্য খালাসে নানা জটিলতা রয়েছে। এগুলো কটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্টদেরকে আরও সোচ্চার হতে হবে।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই কনফারেন্স দুটি টেকনিক্যাল সেশনে সম্পন্ন হয়।

প্রথম টেকনিক্যাল সেশনে “শিপার্স একাডেমি শ্রীলঙ্কা”-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোহান মাসাকোরালা, “দুবাই ফ্রেইট সিস্টেমস”-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড ফিলিপস, সিঙ্গাপুরের “স্টেন ইন্টারন্যাশনালস”-এর বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিষয়ক পরিচালক ভিনসেন্ট লি তাদের নিজ নিজ দেশের লজিস্টিক ব্যবস্থা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় টেকনিক্যাল সেশনে “Logistic Sector in Bangladesh: A Critical Appraisal” শিরোনামে একটি ভিডিও চিত্র এবং কী নোট উপস্থাপন করেন এক্সপেডিটরস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। পরে বিএসইসিএমএস’র চেয়ারম্যান নকীব খানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অভ্‌ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সেহজাদ মুনিম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ, পিএসসি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোঃ ফিরোজ শাহ আলমসহ আরও অনেকে। তাঁরা বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু সুপারিশ করেন।

সবশেষে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top