পুঁজিবাজার বিকাশে সবচেয়ে বড় বাধা দূর করতে হবে

শেয়ারের দাম উঠা-নামার সাথে কোম্পানির আয়ের কোন সম্পর্ক নেই। তবে কোম্পানির আয় বাড়লে শেয়ারের চাহিদা বাড়ে। আর চাহিদা বাড়লে শেয়ারের দামও বাড়ে। এটাই শেয়ারের ধর্ম।

অথচ আমাদের দেশে এর পুরোপুরি বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। শেয়ারের দাম বাড়লে কোম্পানির আয় বাড়তে থাকে আর শেয়ারের দাম কমতে থাকলে কোম্পানির আয়ও কমতে থাকে। এমনটি হবার কারন হচ্ছে কোম্পানিগুলোর সাথে জুয়াড়িদের সখ্যতা। প্রথমে জুয়াড়িরা শেয়ারের দাম বৃদ্ধি করে। তারপর তারা কোম্পানির আয় বেশি দেখিয়ে সাধারণ পাবলিকদের প্রলুব্ধ করে এবং শেয়ার গুলো বেশি দামে বিক্রি করে দেয়। শেয়ারগুলো পাবলিককে ধরিয়ে দিতে পারলেই কোম্পানির ইনকাম আবার সেই আগের জায়গায় অর্থাৎ কমতে থাকে। শেয়ারের দামও সেই পূর্বের জায়গায় চলে যায়। নিম্নে বাস্তব একটি উদাহরণ তুলে ধরছি।

মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

============================

চলতি বছরের EPS (ইনকাম শেয়ার প্রতি)

১ম প্রান্তিক EPS = ৩.৪৬ ( দাম তখন ৩৫০ টাকা )

২য় প্রান্তিক EPS = ৪.৬৬ ( দাম তখন ৪৪০ টাকা )

আজ মুন্নু সিরামিকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে,

৩য় প্রান্তিক EPS এসেছে = ০.২০ মাত্র বিশ পয়সা ( দাম এখন ২২০ টাকা)

লক্ষ্য করুণ, দাম যখন কমছে তখন তার সাথে পাল্লা দিয়েও কমছে কোম্পানির ইনকাম। ১ম এবং ২য় প্রান্তিকের ইনকামের সাথে ৩য় প্রান্তিকের ইনকামের পার্থক্য কাউকে বিশ্বাস করাতে পারবেন?  আপনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারবেন কি? মুন্নু সিরামিক ছাড়াও আরও কয়েক ডজন কোম্পানির নাম বলা যাবে যাদের EPS নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যেমন ইনটেক। এছাড়াও বাজারে তালিকাভুক্ত নুতন প্রত্যেকটি কোম্পানির অবস্থাও একই। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির আগ পর্যন্ত কোম্পানির আয় ভাল দেখালেও সময়ের সাথে সাথে আয় কমতে থাকে।

আবার আয় বেশি হওয়া সত্ত্বেও আয় কম করে দেখানো কোম্পানির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। যেমন: এসিআই। ৬০০০ কোটি টাকা যে কোম্পানির টার্নওভার সেই কোম্পানির নাকি লোকসান করেই যাচ্ছে। এছাড়াও সরকারি কোম্পানিগুলো আয় নিয়েও রয়েছে অনেক ধরনের সন্দেহ। কারন সরকারি কোম্পানিগুলো একাধিপত্য (Monopoly) ব্যবসা করে। যেমন ধরেন: পাওয়ার গ্রিড, ডেসকো, তিতাস কোম্পানিগুলো যে আয় দেখায় তার থেকেও কয়েকগুন বেশি আয় তাদের হওয়ার কথা। ধরুণ, আপনি উত্তরাতে একটি বাড়ি করবেন। সেখানে আপনি রড সিমেন্ট যে কোন কোম্পানির ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বিদ্যুৎতের লাইন নেয়ার ক্ষেত্রে ডেসকো ছাড়া বিপল্প উপায় নেই।

পুঁজিবাজার জুয়া খেলার জায়গা না। পুঁজিবাজারে কোন মূর্খ ব্যক্তির জায়গা নেই। এই ব্যবসার সাথে জড়িত ১০০% ব্যক্তি উচ্চ শিক্ষিত। তবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দুর্বলতার সুযোগে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে বছরের পর বছর। দেশের পুঁজিবাজারকে জুয়ার আঁকড়ায় পরিণত করেছে কোম্পানিগুলো। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর আয় বছরের পর বছর শুধু বাড়ছে কিন্তু দেশিয় কোম্পানিগুলোর আয়ের ক্ষেত্রে কোন ধারাবাহিকতা নেই।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের সাথে যে জুয়া খেলায় মেতেছে তা দূর করতে হবে। কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা ১০০% নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানিগুলো যে ফাঁক-ফোকড় দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণা করছে সেই ফাঁক-ফোকড় গুলো বন্ধ করতে হবে। পুঁজিবাজারের সবচেয়ে নিকৃষ্ট দিক হচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতারণা। এটি দূর করতে না পারলে পুঁজিবাজারকে কোন ভাবেই সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব না।

 

তানভীর আহমেদ

বিনিয়োগকারী

উত্তরা, ঢাকা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top