৪০ টাকার কে অ্যান্ড কিউ’কে ২৬৫ টাকায় খাওয়ানো হলো

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কে অ্যান্ড কিউ অনেক আগে থেকেই গেম্বলিং আইটেম হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩০০ এর কাছাকাছি পি/ই রেশিও’তে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও বিনিয়োগকারীদের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ ছিলো না। মূল হোতাদের টার্গেট ছিলো একীভূতকরণের নিউজ আসার আগ পর্যন্ত যত বাড়ানো যায়। অবশেষে ৪০ টাকার কে অ্যান্ড কিউ গিয়ে ঠেকলো ২৬৫ টাকায়। আজকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারটিকে উচ্চ দামে বিক্রি করে বের হয়ে গেছে অদৃশ্য চক্রের নামে একটি শক্তিশালী দল। যে কারণে কোম্পানির শেয়ার দরে ব্যাপক সেল প্রেসারে এর দর অনেক কমে গেছে। মধ্যখানে অতিলোভে আবারো ক্ষতির মুখে পড়েছেন কিছু বিনিয়োগকারী।

উল্লেখ্য, ৪০ এর উপরে পিই সম্পন্ন কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয় এবং কে অ্যান্ড কিউ এর বর্তমান পিই রেশিও ২৯৫.৯৬। অর্থাৎ কোম্পানির শেয়ার দর কমতে কমতে যদি ৪০ টাকাতেও আবার নেমে আসে তখনও কোম্পানির শেয়ার দর ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় থাকবে।

জানা গেছে, একীভূতকরণ স্কিম অনুসারে মাল্টিসোর্সিংয়ের ১০০ টাকা ফেসভ্যালুর একটি শেয়ারের বিপরীতে কেঅ্যান্ডকিউর ১০ টাকা ফেসভ্যালুর ২.০৮টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। গত বছরের ১০ জুন মাল্টিমোড গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মাল্টিসোর্সিংকে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেয় কেঅ্যান্ডকিউর পর্ষদ। এরপর আদালতে আবেদন করা হলে ১২ আগস্ট একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন দেয় হাইকোর্ট বিভাগ। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ নং আইনের অধীনে একীভূতকরণের এ আবেদন করে কোম্পানি।

এর আগে একীভূত করতে কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করে কেঅ্যান্ডকিউ। মেসার্স মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পুনর্মূল্যায়নে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত এ কোম্পানির সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৩ টাকা। এ সম্পদের বুকভ্যালু হচ্ছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৩৪ হাজার ৭২৩ টাকা। এ সময় কোম্পানির রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৬১ হাজার ১৫০ টাকা।

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেঅ্যান্ডকিউ দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জেড ক্যাটাগরিতে ছিলো। সর্বশেষ অর্থবছরে ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নেয়। কোম্পানিটির মোট ৪৯ লাখ ২ হাজার ৫৩০টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২৪.০৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৩.৮৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৭২.১০ শতাংশ শেয়ার।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top