দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে ‘নীরবে’ ব্যবস্থা নেবে আ.লীগ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: উপজেলা নির্বাচনের প্রথম চার ধাপে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের ৫৫ জন সাংসদের বিরুদ্ধে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও কাউকে নোটিশ পাঠানো হয়নি। একসঙ্গে সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে ধাপে ধাপে ‘নীরবে’ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, ৮ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদক অভিযুক্ত সাংসদদের নামের তালিকা পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেন। এতে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নামও রয়েছে। আটটি তালিকায় যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গত ১০ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চার ধাপে দেশের ৪৪৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট হয়। এর মধ্যে দলীয় সাংসদ ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সমর্থন নিয়ে ১৩৬ উপজেলায় জয়ী হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

নাম না প্রকাশের শর্তে দলের দুজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নীরবে শাস্তি পেয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে এক-এগারো পরবর্তী সময়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দলের পদ হারান। কয়েকজনকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়েই অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছেন। এমনকি এখনো দলে নানাভাবে কোণঠাসা হয়ে আছেন কেউ কেউ। উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরাও পর্যায়ক্রমে শাস্তির মুখে পড়বেন।

অভিযুক্ত সাংসদদের নামের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নামও রয়েছে
শাস্তি হিসেবে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে
ভবিষ্যতে মনোনয়নের ক্ষেত্রে অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হবে

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, নৌকার বিরোধিতাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। দলীয় প্রধানের কাছে সব তথ্য আছে। সময়মতো তিনি ব্যবস্থা নেবেন। কেন্দ্রসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নতুন কমিটি গঠনের সময় দলীয় পদ হারাতে পারেন এসব নেতা। অতীতেও এমন নীরব ব্যবস্থা নেওয়ার নজির আছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পরদিন থেকে নোটিশ পাঠানোর কথা থাকলেও পরে ওই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। দলের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে এখন সাংগঠনিক সফরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নেতারা। আগামী অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাংসদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি দল। তাঁরা মনে করছেন, দলের পক্ষ থেকে অন্তত সতর্ক করা উচিত। এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে আগ্রহী হতে পারেন। ঈদের পর পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচন এবং এ বছরই হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাকিরা সতর্ক হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, নির্বাচনের পর পর অনেকের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ উঠেছে। তাই দলের পক্ষ থেকে আরও ভালো করে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top