কপারটেকের মাধ্যমে মাঠে নামলো এফআরসি: আটকে গেলো বিনিয়োগকারীদের টাকা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া কপারটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ নিয়ে এবার মাঠে নেমেছে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ডিবিএ’র পরামর্শে ডিএসই কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদন খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবার অ্যাকশনে রয়েছে এফআরসি। ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন তৈরি করার পর এফআরসি’র এতোদিন কোনো দৃশ্যত পদক্ষেপ দেখা না গেলেও কপারটেকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে এফআরসি। শুধু কপারটেকই নয় তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত বেশকিছু কোম্পানির অনিয়ম চিহ্নিত করে তার সমাধান করার জন্য কোম্পানি ও নিরীক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছে এফআরসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, এফআরসি কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদন ঠিক আছে কিনা কিংবা আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ইন্সটিটিউশন অব চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সম্প্রতি কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় দায়িত্বশীলতা থেকে আইসিএবি’র কাছে কোম্পানিটির ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টে অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা এবং অডিটর অপিনিয়ন (নিরীক্ষা মতামত) জানতে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এফআরসি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৭০তম সভায় কপারটেকের আইপিও অনুমোদন হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা আইপিও কনসেন্ট লেটার (সম্মতি পত্র) পায়। ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল এই সময়ের মধ্যে কপারটেকের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।  গত ৩০ এপ্রিল কোম্পানিটির আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কপারটেকের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না হলেও লেনদেনের আগে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনের জটলা না খোলা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের টাকা আটকে গেলো।

এদিকে সম্প্রতি তালিকাভুক্ত এবং জনস্বার্থ প্রতিষ্ঠান সমূহের বেশকিছু কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পুনরীক্ষণে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে এফআরসি’র মানদণ্ড নির্ধারণী বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ আনওয়ারুল করিম, এফসিএ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: প্রলম্বিত আয়কর (ডেফার্ড ট্যাক্স) উপেক্ষা করা, সম্পর্কযুক্ত পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের (রিলেটেড পার্টি ট্রানজেকশন ) উল্লেখ না করা, পূর্ববর্তী বছরের আনুমানিক (ইস্টিমেটেড) খরচ বা আয়ের হ্রাস/বৃদ্ধি চলতি বছরের আয় বা ব্যয়ে না নিয়ে তা মূলধনে (ইক্যুইটি) সমন্বয় করা, মেয়াদদোত্তীর্ণ, অচল মজুত স্টক এর অবলোপন (রাইট অফ) এবং সম্পত্তির উপযোগিতা হ্রাস (ইমপেয়ারমেন্ট) বিবেচনা বা হিসেবে না নেয়া, অন্যান্য সম্ভাব্য খরচ ( এক্সপেন্স অ্যান্ড লস প্রভিশন) সংশ্লিষ্ট হিসাব বা আর্থিক প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ না করা ইত্যাদি।

উল্লেখিত কারণে আর্থিক প্রতিবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করছে না। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিনিময় হার উঠানামার ক্ষেত্রে লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে না এবং এ বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও দেয়া হচ্ছে না। বিষয়গুলো আইএফআরএস (ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস) তথা বাংলাদেশে প্রযোজ্য আর্থিক প্রতিবেদন মানদন্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও ঢালাওভাবে আর্থিক প্রতিবেদনসমূহ আইএফআরএস অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে বলে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু নিরীক্ষকগণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা বিষয়বস্তু অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য তথ্য অনুচ্ছেদ উল্লেখ না করেই নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছেন যা বাংলাদেশে প্রযোজ্য আইএসও (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডস অন অডিটিং) এর লঙ্ঘন।

এদিকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও নিরীক্ষকগণকে উপরে উল্লেখিত বিষয়ে সঠিক ও সত্যনিষ্ঠ আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে এফআরসি। অন্যথায় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট (এফআরও) ২০১৫ অনুযায়ী উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে এফআরসি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top