প্রথম প্রান্তিকে ৬৭ শতাংশ ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো ২০১৮ সালে বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কমলেও ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৯) বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। আলোচিত সময় প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে ২০টি ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে। আর ৮টি ব্যাংকের ইপিএস কমেছে, ১টি ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে এবং ১টি ব্যাংকের লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরেছে।

ইপিএস বৃদ্ধির ২০ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর বেড়েছে উত্তরা ব্যাংকের। আলোচিত সময় ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৯৪ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.৫৫ টাকা বা ১৪১.০২ শতাংশ।

ইপিএস বৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে সিটি ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৯ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৮ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.৪১ টাকা বা ১০৭.৮৯ শতাংশ।

আর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.২৭ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.২০ টাকা বা ৭৪.০৭ শতাংশ।

এছাড়া ইপিএস বৃদ্ধির অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.০৬ টাকা বা ০.১৫ শতাংশ।

ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস বেড়েছে ০.০৯ টাকা বা ১৬.৯৮ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫৩ টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৪ টাকা বা ৮.১৬ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৪৯ টাকা।

ইস্টার্ন ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.৪৮ টাকা বা ৬৯.৫৬ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.১৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৬৯ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.২০ টাকা বা ৫০ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬০ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৪০ টাকা।

ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৪ টাকা বা ১১.১১ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪০ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৬ টাকা।

যমুনা ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.২৯ টাকা বা ৬৪.৪৪ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৪ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৪৫ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৮ টাকা বা ১২.৩০ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৬৫ টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৫ টাকা বা ৪৫.৪৫ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.১৬ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১১ টাকা।

এনসিসি ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৪ টাকা বা ১০.২৫ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৯ টাকা।

প্রিমিয়াম ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.১৮ টাকা বা ৪৬.১৫ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৯ টাকা।

প্রাইম ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৬ টাকা বা ১৯.৩৫ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩১ টাকা।

পূবালী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.১৪ টাকা বা ২০ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৮৪ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৭০ টাকা।

রুপালী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৩ টাকা বা ১৩.৬৩ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.২২ টাকা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.১৮ টাকা বা ৪৮.৬৪ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৭ টাকা।

ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.১৩ টাকা বা ৪১.৯৩ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৪ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩১ টাকা।

এদিকে, ইপিএস কমার ৮ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর কমেছে এবি ব্যাংকের। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.১০ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১৬ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৬ টাকা বা ৩৭.৫০ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৩৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩.১৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.৮২ টাকা বা ২৫.৭০ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৮১ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.১৮ টাকা বা ২২.২২ শতাংশ।

এছাড়া ইপিএস কমার অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ব্রাক ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ০.০৬ টাকা বা ৪.৬৮ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.২২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.২৮ টাকা।

ওয়ান বাংকের ইপিএস কমেছে ০.০৬ টাকা বা ১৯.৩৫ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩১ টাকা।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস কমেছে ০.০১ টাকা বা ৩.০৩ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৩ টাকা।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ইপিএস কমেছে ০.১২ টাকা বা ২০.৩৩ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫৯ টাকা।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ইপিএস কমেছে ০.০৭ টাকা বা ৮.৪৩ শতাংশ। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৬ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৮৩ টাকা।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকেও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে। ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৯) ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.১৬ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১৩ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ০.০৩ টাকা।

তাছাড়া ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিক এক্সিম ব্যাংক লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় অবস্থান করছে। ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৯) ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ০.২৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ০.২৫ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top