নগদ অর্থের সংকট থেকে বের হতে পারেনি ১৪ ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংক ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় নগদ অর্থের সংকটে রয়েছে এখনও ১৪ ব্যাংক। এদিকে, আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় নগদ অর্থের সংকট থেকে বের হয়ে এসেছে ৭ ব্যাংক।

নগদ অর্থের সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো হলো- এবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, নাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। এগুলোর মধ্যে কিছু ব্যাংকের নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে আর কিছু ব্যাংকের পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ বাড়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রুপালী ব্যাংক লিমিটেড। প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৭৯.৫১ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৩২.১১ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এরপরেই রয়েছে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১৮.৯৬ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৩.০৭ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১১.৫৬ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.৩২ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে নগদ অর্থের সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে যমুনা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৬.৮৩ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.৩১ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ বেড়েছে।

এবি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৫.৬৮ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৯.৯৪ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৪ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৭.৯১ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১.৮৩ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৩.৬১ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৮.৬৫ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ১৩.৫৭ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ২.৭৬ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৯.০৭ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৭.৯২ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৮.৬৫ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১২.৪১ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৯.১৪ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকটের পরিমাণ কমেছে।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৩.৩০ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৩.০৫ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে গত বছর উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ০.৫৮ টাকা ঋণাত্মক। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ০.৪০ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটিতে গত বছর উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

এদিকে, নগদ অর্থের সংকট থেকে বের হয়ে আসা ৭ ব্যাংকের মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৩.৬১ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৪.১৪ টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ০.৭৪ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৪.২৬ টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৩.৩৯ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ২৬.৮০ টাকা।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১০.২৩ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ৩১.৩১ টাকা।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ০.১৯ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ০.৩০ টাকা।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১৫.৫২ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ১৩.৩৩ টাকা।

পূবালী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৭.১৪ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি ছিল ১.০৯ টাকা।

উল্লেখ্য, কোন কোম্পানির কাছে কি পরিমাণ নগদ অর্থ আছে তা অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একাধিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া মানে ওই ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হওয়া। শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) যত বেশি ঋণাত্মক, নগদ অর্থের সংকটও তত বেশি। এ অবস্থা তৈরি হলে চাহিদা মেটাতে ব্যাংকটিকে চড়া মাশুলে স্বল্প মেয়াদে টাকা ধার করতে হয়। তাতে খরচ বাড়ে। আর খরচ বাড়লে আয় কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।

তারা আরো বলেন, শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে যেকোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লোও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক মানে ওই কোম্পানির কাছে নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে। আর ক্যাশ ফ্লো ইতিবাচক মানে হলো ওই কোম্পানির হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top