কি হচ্ছে কেয়া কসমেটিকসে?

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ৩০ জুন,২০১৮ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডের ঘোষণা দিয়ে আর কোনো খবরই নেই তালিকাভুক্ত কেয়া কসমেটিকসের। ইতিমধ্যে ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের তিনটি প্রান্তিক শেষ হলেও কেয়া কসমেটিকসের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদনের চিত্র দেখতে পায়নি বিনিয়োগকারীরা। এমনকি ঘোষিত ডিভিডেন্ড ঝুঁলিয়ে রেখে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস। ঋণের ভারে জর্জরিত কেয়া কসমেটিকস পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে নাকি একেবারে অস্তিত্ব হারাবে সে বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের কাছে অস্পষ্ট। এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের এতোটাই অনাস্থা এসেছে যে ১৮ টাকার শেয়ার বর্তমানে মাত্র ৪ টাকার ঘরে লেনদেন হচ্ছে। সবচেয়ে আর্শ্চয্যের বিষয় হচ্ছে, এ কোম্পানির মালিক আব্দুল খালেক পাঠান এই শেয়ার দরেই গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তার হাতে থাকা ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগকারী খালেক পাঠানের কাছ থেকে কেয়া কসমেটিকসের ৩ কোটি শেয়ার কিনতে আগ্রহ দেখাননি। এর মধ্যে নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবস অতিক্রম হয়ে গেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি কোম্পানির মূল স্পন্সর পরিচালক যা আজ ডিএসই’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যতবার কথা হয় ততবারই একই কথা “চেষ্টা চলছে, শিগগির, শিগগির” বলে দায় মিটিয়েছে। কিন্তু এই শিগগির করতে করতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অবস্থা এতোটাই নাজুক পর্যায়ে নেমে এসেছে যে বর্তমানে কেয়া কসমেটিকসকে ইউনাইটেড এয়ারের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এই কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার দরও ইউনাইটেড এয়ারের মতো দুই টাকায় নামবে এমন আশঙ্কায় রয়েছেন। যে কারণে ৪ টাকাতেও এ কোম্পানির শেয়ার কিনতে আগ্রহী হয়নি কেউ। কারণ কেয়া কসমেটিকস নিয়ে সবাই অন্ধকারে মধ্যে রয়েছে। কি হচ্ছে কোম্পানির ভেতর তা একমাত্র তারাই জানে। কোথায় যাচ্ছে কেয়া কসমেটিকসের ভবিষ্যত সে বিষয়ে জানা শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার হলেও তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করে আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্সের বালাইও দেখা যাচ্ছে না কেয়া কসমেটিকসে। তাই এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সরকার তথা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এগিয়ে আসতে বলে মনে করেন ভুক্তভোগিরা।

২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কেয়া কসমেটিকসের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মোট ১০০ কোটি ২১ লাখ ৬ হাজার ৬৬০টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৪৬.২৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৮.৯৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৪.৭৬ শতাংশ শেয়ার।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top