শেয়ারবাজারে পুন:অর্থায়ন: বিনিয়োগকারীরা ৭% সুদে লোন পাবেন

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য আগের দেওয়া ৯০০ কোটি টাকা পুন:অর্থায়ন তহবিলের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে শেষ হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি মন্দা থাকায় এই ৯০০ কোটির মধ্যে ৮৫৬ কোটি পুনরায় বিনিয়োগকারীদের ঋণ হিসেবে দিতে পারবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। আগামী তিন বছর ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত দ্বিতীয় বারের মতো পুন:অর্থায়নের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। এক্ষেত্রে আইসিবি’র কাছ থেকে সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে। হাউজগুলো সেই ঋণের টাকা বিনিয়োগকারীদের ৭ শতাংশ সুদে প্রদান করবে। আইসিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, শেয়ারবাজার পুন:অর্থায়ন স্কীমের আওতায় সরকারের দেওয়া ৮৫৬ কোটি টাকা আইসিবিসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে পাবে। “আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে ঋণ সরবরাহ করবে আইসিবি। ইতিমধ্যে সরকারের দেওয়া প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজ ৯০০ কোটি টাকা আইসিবি’র মাধ্যমে হাউজগুলো ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকায় নাম থাকা স্বত্ত্বেও তারা পুন:অর্থায়নের কোনো সুবিধা পায়নি। হাউজগুলো নিজেরা ঋণ নিয়ে নিজেরাই ব্যবসা করেছে।

উল্লেখ্য, , ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ‘পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল’ নামে একটি তহবিল গঠন করে আইসিবির মাধ্যমে পুন:অর্থায়ন সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এই সুবিধা সর্বপ্রথম ৩১ ডিসেম্বর,২০১৭ পর্যন্ত  সময় বেঁধে দিয়েছিল আইসিবি। কিন্তু ঐসময় বাজার পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির দিক বিবেচনা করে এর মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করে আইসিবি। অর্থাৎ চলতি বছরেই এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় এর মেয়াদ আরো তিন বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে সরকার।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ স্কিমের ঘোষণা দেয়। ওই স্কিমের আওতায় তাদের এক বছরের মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ মওকুফ এবং বাকি সুদসহ সমুদয় ঋণ তিন বছরে সমান ১২ কিস্তিতে প্রদানের সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়। মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ক্ষতিগ্রস্ত এসব বিনিয়োগকারীর পুনঃঅর্থায়ন ঋণ সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ কোটা সুবিধাও দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেই সুদের কমিয়ে হাউজগুলোর জন্য ৫ শতাংশ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

 

আপনার মন্তব্য

Top