দিনভর উত্তেজনায় রানার অটোমোবাইলসে ৩৩ শতাংশ মুনাফা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আজ রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে যার আলাপ-আলোচনা গত দু’দিন থেকেই চলছিল। আইপিও বিজয়ী ছাড়া বাকি প্রায় সব বিনিয়োগকারীরাই রানারের বিপক্ষে কথা বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছে। কিন্তু আজ যখন রানারের ওপেন প্রাইস ৯৭ টাকায় শুরু হয় তখনই সকলের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। দিনভর উত্তেজনায় কোম্পানিটির শেয়ার দরে উত্থান-পতন চলতে থাকে। ১০৭ টাকা পর্যন্ত শেয়ার দর উঠে আবার ১০০ টাকায় নেমে আসে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি মন্দা না থাকলে কোম্পানিটির শেয়ার দর আরো বাড়তো বলে ধারণা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আর লেনদেনের শুরুর প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের ৩৩ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেশের উভয় শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এ কোম্পানির লেনদেন। আর লেনদেনের প্রথম দিনেই এ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২৪.৮০ টাকা বা ৩৩.০৬ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭৫ টাকা মূল্যের কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দিনের লেনদেন শেষে ৯৯.৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে দর বেড়েছে ২৪.৮০ টাকা বা ৩৩ শতাংশ। কোম্পানির শেয়ার লেনদেন আজ ৯৭.৩০ টাকায় শুরু হয় দর ক্লোজিং হয় ৯৯.৮০ টাকায়। সে হিসাবে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ৭৫ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ২৪.৮০ টাকা বা ৩৩ শতাংশ মুনাফা অর্জন করেছেন। আর সাধারন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটিতে ৬৭ টাকা বিনিয়োগে ৩২.৮০ টাকা বা ৪৯ শতাংশ মুনাফা করেছেন।

আজকে লেনদেনের প্রথম দিনে কোম্পানিটির ৩৫ লাখ ২২ হাজার ১৮টি শেয়ার ১৭ হাজার ৩৫৬ বার লেনদেন হয়। যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এদিকে প্রথম দিনে রানার অটোমোবাইলসের সর্বনিম্ন দর ছিল ৯২ টাকা ও সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৭.৮০ টাকা। আর সর্বশেষ ১০০.৪০ টাকায় লেনদেন হয়। ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এ কোম্পানির ডিএসইতে ট্রেডিং কোড হচ্ছে “RUNNERAUTO” এবং কোম্পানি কোড হচ্ছে : ১৩২৪৬। আর সিএসইতে কোম্পানি কোড হচ্ছে: ১৬০৩৯ ।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ সকাল ১০ টায়, এজিবি কলোনী, মতিঝিল,ঢাকায় এ কোম্পানির আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত হয়। আর গত ২৫ মার্চ লটারী বরাদ্দ হওয়া শেয়ার বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে জমা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৬৩তম কমিশন সভায় কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।কোম্পানিটির আইপিও আবেদন চলে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রানার ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৮টি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার ৭৫টাকা করে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। অবশিষ্ট ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৫টি শেয়ার ৬৭ টাকা করে (৭৫ টাকা থেকে ১০ শতাংশ কমে) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট ইস্যু করা হবে।

এর আগে গত বছরের ১০ জুলাই কমিশনের ৬৫০তম সভায় রানার অটোমোবাইলকে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) এর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি বা বিডিংয়ের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপর গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা বিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বিডিংয়ে কোম্পানিটির শেয়ারের কাট অফ প্রাইস ৭৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল। আইপিও’র টাকা দিয়ে কোম্পানিটি গবেষণা ও উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচে ব্যয় করবে।

গত পাঁচ বছরে ভারিত গড় হরে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩.৩১ টাকা। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা।

কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লি:।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top