নগদ অর্থের সংকটে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৯ বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আর্থিক খাতে ২৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এর মধ্যে একমাত্র আইসিবি বাদে বাকী সব কোম্পানি আর্থিক হিসাব শেষ ডিসেম্বরে। বাকী ২২ কোম্পানির মধ্যে ১৬টি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়া চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৯.২২ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৮.৯৭ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ০.২৫ টাকা।

এরপরে নগদ অর্থের সংকটে রয়েছে আইপিডিসির। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৪.৯৯ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ২.৪৮ টাকা ঋণাত্মক। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ২.৫১ টাকা।

এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৩.৮৭ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ১.২৯ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ২.৫৮ টাকা।

বিডি ফাই্যন্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ১.২২ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ০.৭৬ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ০.৪৬ টাকা।

ডেল্টা ব্রাক হাউজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ০.৫৮ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৩.৪৩ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

ফাস ফাই্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ৪.৬২ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ৪.৪৮ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট বেড়েছে ০.১৪ টাকা।

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ১.০৩ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ১.৫৫ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল।

প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের ঘাটতি হয়েছে ০.১৪ টাকা ঋণাত্নক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থ ছিল ১.৩৫ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট কমেছে ১.২১  টাকা।

ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ার প্রতি সমন্বিত ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১.৫৮ টাকা ঋণাত্মক। এর আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৮.৮৮ টাকা ঋণাত্নক। অর্থাৎ কোম্পানির নগদ অর্থের সংকট কমেছে ৭.৩০ টাকা।

উল্লেখ্য, কোন কোম্পানির কাছে কি পরিমাণ নগদ অর্থ আছে তা অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একাধিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ব্যাংক বা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া মানে ওই প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের সংকট তৈরি হওয়া। শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) যত বেশি ঋণাত্মক, নগদ অর্থের সংকটও তত বেশি। এ অবস্থা তৈরি হলে চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানকে চড়া মাশুলে স্বল্প মেয়াদে টাকা ধার করতে হয়। তাতে খরচ বাড়ে। আর খরচ বাড়লে আয় কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।

তারা আরো বলেন, শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে যেকোনো কোম্পানির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লোও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক মানে ওই কোম্পানির কাছে নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে। আর ক্যাশ ফ্লো ইতিবাচক মানে হলো ওই কোম্পানির হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

শেয়ারবাাজরনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top