নিউ লাইন ক্লোথিংসের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: লেনদেন শুরু কাল

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে আগামীকাল ২৭ মে থেকে শেয়ার লেনদেন শুরু করতে যাচ্ছে সদ্য আইপিও’র মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা কোম্পানি নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। লেনদেন শুরু একদিন আগে কোম্পানিটি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ৩.০৩ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারী-মার্চ’১৯) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৮ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৬৬ টাকা্। সে হিসেবে কোম্পানির  ইপিএস বেড়েছে ০.০২ টাকা বা ৩.০৩ শতাংশ। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৩৯ টাকা।

এই সময়ে কোম্পানির কর পরবর্তী মোট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ২ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে, নয় মাসে (জুলাই’১৭-মার্চ১৮) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৪৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৩৯ টাকা্। সে হিসেবে কোম্পানির  ইপিএস বেড়েছে ০.০৮ টাকা বা ৫.৭৫ শতাংশ। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৮৪ টাকা।

এই সময়ে কোম্পানির কর পরবর্তী মোট মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এছাড়া আলোচিত সময় কোম্পানির আইপিও পূববর্তী শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৩ টাকা। আইপিও পরবর্তী পরে যা দাঁড়িয়েছে ২৪.২৩ টাকা।

উল্লেখ্য, ‘এন’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করা নিউ লাইন ক্লোথিংসের ট্রেডিং কোড: “NEWLINE”। ডিএসইতে কোম্পানি কোড হচ্ছে- ১৭৪৮২। সিএসইতে কোম্পানি কোড হচ্ছে- ১২০৭০।

এর আগে কোম্পানির আইপিও লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে গত ১৫ এপ্রিল (সোমবার) বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে জমা হয়।

এদিকে, কোম্পানির আইপিও আবেদনে চাহিদার ২৭.৭৫ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন পড়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৬টি। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫৬৯ কোটি ৫২ লাখ ৩৫ হাজার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আবেদন পড়েছে ৮৯৯টি। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২৬২ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে মোট আবেদন পড়েছে ৮৩২ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বা প্রায় ২৭.৭৫ গুণ।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হবে। এরমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বা ১৫ কোটি টাকা। এই ১৫ কোটি টাকার বিপরীতে ৮৯৯টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬২ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার আবেদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চাহিদার ১৭.৫১ গুণ বা ১৭৫১ শতাংশ আবেদন জমা পড়েছে।

গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৬৭তম সভায় কোম্পানিটিকে এ অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, কারখানা ভবন সম্প্রসারণ, মেয়াদী ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

নিউ লাইনের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৮৫ টাকা। আর ২০১৭ সালের ৩০ জুন পুন:মূল্যায়নসহ নীট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৩ টাকায় এবং পুন:মূল্যায়ন ছাড়া এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০.৫২ টাকায়।

আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সন্ধানী লাইফ ফাইন্যান্স এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top