ফের ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বিনিয়োগকারীরা

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পরিপালন শেষে আজ আবার বাজারমুখী হতে যাচ্ছেন বাজার সংশ্লিষ্টসহ বিনিয়োগকারীরা। ঈদ পরবর্তী ১ম কার্যদিবস থেকেই আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা বাড়ছে। যে কারণে ইতিবাচক মনোভাবেই বাজার শুরু হয়েছে। তবে বাজারকে নিয়ে প্রত্যাশা হলেও গতিশীলতা থেকে বার বার হোঁচট খাচ্ছে বাজার।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ভালো ইপিএস দেখানোর পাশাপাশি ভালো ডিভিডেন্ড দিলে বিনিয়োগকারীরা অবশ্যই সেদিকে আগ্রহ বাড়াবে। রেগুলেটরি অথরিটিতে যারা রয়েছেন তারা যে যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে বাজার অবশ্যই স্থিতিশীল হবে। ইতিমধ্যে বাজারের পরিধি অনেক বাড়ানো হয়েছে। আরো বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্লিয়ারি করপোরেশন,ডেরিভেটিভ,কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার কাজ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বাজার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এ মুহূর্তে বাজারে বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানি দেখে বিনিয়োগ করার কোনো বিকল্প নেই। আর অবশ্যই বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদির জন্য রাখতে হবে সে পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন।

আসলে বাজারকে ঘিরে যারা জড়িয়ে রয়েছেন তারা যদি একযোগে কাজ করে তাহলে কোনো ইস্যুই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ভালো ইপিএস দেখানোর পাশাপাশি ভালো ডিভিডেন্ড দিলে বিনিয়োগকারীরা অবশ্যই সেদিকে আগ্রহ বাড়াবে। রেগুলেটরি অথরিটিসহ যে যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে বাজার অবশ্যই স্থিতিশীল হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বাজার পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই বাজারে মূলধনের তুলনায় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ খুবই নগন্য। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো কোনো ফান্ড এগিয়ে আসছে না। বীমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ডের বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে। ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা করেছে তার সামান্য পুন:বিনিয়োগ হয়েছে। আইনের মধ্যে থেকেই এসব প্রতিষ্ঠান এখনো বিপুল পরিমাণ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। এতে তারল্য সংকট নিরসন হওয়ার সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা ফিরে পাবে।

এদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাইমারি মার্কেট চাঙ্গা রাখার কোনো বিকল্প নেই। কারণ প্রাইমারি মার্কেটের মাধ্যমেই কোম্পানির পুঁজি উত্তোলন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে,কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক সময়ে আইপিও’তে দুর্বল কোম্পানির প্রবেশের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বর্তমানে প্রাইমারি মার্কেট নিয়ে হার্ডলাইনে রয়েছে। বিষয়টি সুখকর হলেও আইপিও বন্ধ রাখা কোনো সমাধান হতে পারে না। পুঁজিবাজারে যেন দুর্বল কোম্পানি প্রবেশ করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করতে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সজাগ থাকা জরুরি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top