দুই বছরে ৫ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

শেয়ারবাজর ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত নি-গোষ্ঠী রোহিঙ্গরা। যারা নিজ দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক বিতাড়িত জাতি। তারা এবার আশায় বুক বাধতে পারেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা ৫ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার সরাকার। আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা এ সস্পর্কিত একটি রিপোর্ট ফাঁস হয়ে গেলে বিষয়টি জানা যায়।

এএফপির হাতে আসা ওই রিপোর্টে আশা প্রকাশ করা হয়েছে শিগগিরই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে। সেইসাথে ওই রিপোর্টে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। শিগগিরই রিপোর্টটি জনসম্মুখে প্রকাশ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ভাবে মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ নির্বিচারে করা হয়। এই নারকীয় হামলার হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ নারী-পুরুষ ও শিশু। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ১৯৮২ সাল থেকে ক্রমাগত বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া আরও প্রায় ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৫ লাখ, যা বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম।

‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপেট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ শিরোনামে প্রণীত রিপোর্টে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করার কথা উঠে এসেছে। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। রিপোর্টটিতে আরও জানানো হয়েছে, আসিয়ানের রিপোর্টেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মতো করে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের পরিচয় হিসেবে সেখানে ‘মুসলমান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এদিকে, গত ৬ই জুন নেপি’ডতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখনও প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরাত নেয়নি মিয়ানমার। আসিয়ানের রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে এএফপি আরো জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগবে। তবে মিয়ানমারের এই উদ্যোগকে (রোহিঙ্গা ফেরত) স্বাগত জানানো হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top