প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য ৪ প্রণোদনা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আসন্ন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য ৪ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল। আজ ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে শেয়ারবাজারের জন্য যে ৪টি প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে তা নিম্নে দেওয়া হলো:

স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রদান:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদানে উৎসাহিত করতে স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হবে। আজ প্রকাশিত প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৯-২০২০’এ পুঁজিবাজার প্রণোদনা হিসেবে স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫% ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীগণ কোম্পানি থেকে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রাপ্তির প্রত্যাশা করেন। সে বিবেচনায় ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি ও পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ক্যাশ ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে স্টক ডিভিডেন্ড তথা বোনাস শেয়ার বিতরণের প্রবণতা কোম্পানিসমূহের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। এতে বিনিয়োগকারীগণ তাদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্টক ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদানকে উৎসাহিত করার জন্য কোনো কোম্পানি স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে উক্ত স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রদানের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভের ওপর ১৫% ট্যাক্স আরোপ:

বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড না দিয়ে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ ভারি করার দিন শেষ। যদি কোম্পানির কোনো আয় বছরে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলেই কো্ম্পানিকে গুণতে হবে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ট্যাক্স। আজ প্রকাশিত প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৯-২০২০’এ পুঁজিবাজার প্রণোদনা হিসেবে এই বাড়তি ১৫% ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে শেয়ার হোল্ডারগণ তথা বিনিয়োগকারীদেরকে ডিভিডেন্ড দেওয়ার পরিবর্তে রিটেইনড আর্নিংস বা বিভিন্ন ধরণের রিজার্ভ হিসাবে রেখে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এতে প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড প্রাপ্তি থেকে বিনিয়োগকারীগণ বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ধরণের প্রবণতা রোধে করা প্রয়োজন। এজন্য কোনো কোম্পানির কোনো আয় বছরে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ ইত্যাদি সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে যতটুকু বেশি হবে তার ওপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর প্রদানের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা: 

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্ত সীমা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী তথা সামগ্রিক পুঁজিবাজার উন্নয়নে এই করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড আয় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না আগে যা ছিলো ২৫ হাজার টাকা। আজ প্রকাশিত প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৯-২০২০’এ পুঁজিবাজার প্রণোদনা হিসেবে করমুক্ত ডিভিডেন্ড আয় ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারদের প্রণোদনা প্রদান এবং পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের হাতে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি হতে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকায় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনিবাসী কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপরও দ্বৈতকর প্রত্যাহার:

গেল বছরের বাজেটে দেশিও বা নিবাসী কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর দ্বৈতকর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে (২০১৯-২০২০) বহুজাতিক কোম্পানি বা অনিবাসী কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপরও দ্বৈতকর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল। আজ জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে উপস্থাপনে তিনি এ প্রস্তাব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিবাসী কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর একাধিকবার করারোপন (Multi layer Taxation on Dividend)  রোধ করার বিধান গতবছর কার্যকর করা হয়েছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের উৎসাহী করার জন্য এ বছর নিবাসী ও অনিবাসী সকল কোম্পানির ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নিবাসী কোম্পানির পাশাপাশি অনিবাসী কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপরও একাধিকবার করারোপন হবে না।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top