ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ‘উইন্ডো’ খুলতে চায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ‘উইন্ডো’ খুলতে চায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাকিং খাতের কোম্পানি মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে ব্যাংকটি। ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে শরিয়াহভিত্তিক লেনদেনে আগ্রহী গ্রাহকদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। গতকাল অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চেয়ারম্যান একেএম সাহিদ রেজা।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোঃ কামরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এ.এস.এম. ফিরোজ আলম, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন), মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম. আমানউল্লাহ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিঃ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম, পরিচালক মোরশেদ আলম এমপি, মোঃ আনোয়ারুল হক ও আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাহিদ রেজা বলেন, দেশে এখন সাতটি ব্যাংক পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংকিং করছে। এছাড়া প্রচলিত ধারার কয়েকটি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো বা শাখা রয়েছে। প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকও এমন শাখা খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং খুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেছেন বলে জানান তিনি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৫ জুন গুণী ব্যাক্তিকে সম্মাননা দেওয়া এবং ইয়াং ব্যাংকার্স অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা-২০১৯ এর জন্য মনোনীত পাঁচ ব্যক্তি হলেন- শিক্ষা ক্ষেত্রে ড. তোফায়েল আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গবেষণা ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা ক্ষেত্রে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে আবুল কাশেম (আবুল খায়ের গ্রুপ) ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে মোঃ মোশাররাফ হোসেন খান (সাঁতার)। নির্বাচিতদের প্রত্যেককে ২ ভরি ওজনের স্বর্ণপদক, ৩ লাখ টাকা ও ক্রেস্ট দেয়া হবে।। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হবে।

এদিকে, এমবিএল ইয়াং ব্যাংকার্স অ্যাপ্রিশিয়েশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এর জন্য নির্বাচিত ৫ জন ব্যাংকার হলেন- উজ্জল কুমার সিংহ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, সিরাজুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, এবি ব্যাংক লিমিটেড, এ কে এম হোসেনুজ্জামান, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, তাওহীদ খান মজলিস, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ও মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। নির্বাচিতদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২ জুন ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ২০০৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটি বেশ কয়েকজন ব্যবসায়িক ব্যাক্তিবর্গকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন মরহুম মো: আব্দুল জলিল। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ১৩৯টি শাখা, ১৬৯টি এটিএম বুথ রয়েছে। ব্যাংকটির ৮১ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ২৬৩টি শেয়ারেরে মধ্যে ২৮.৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে, ১৬.৫৫ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে, বিদেশিদের কাছে রয়েছে ৬.৯১ শতাংশ এবং ৩৭.৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

ব্যাংকটি সর্বশেষ ২০১৮ সালের সমাপ্ত অর্থবছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩.৫৯ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৩.৮৯ টাকা।

সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি সমন্বিত প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২২.৯১ টাকা। আর শেয়ার প্রতি সমন্বিত কার্যগরি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২.০৪ টাকা।

এদিকে, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট মুনাফা হয়েছে ১৫৯ কোটি টাকা আর শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৩ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিলো ০.৮৫ টাকা।

এছাড়া আলোচিত সময় ব্যাংকটির মোট আমানত হয়েছে ২৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আর মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। এছাড়া আলাচিত সময় কোম্পানির মোট রেমিটেন্স প্রবাহের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top