রিজার্ভে কর প্রস্তাবিত হলে ২০৯ কোম্পানিকে ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর দিতে হবে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা ও রিজার্ভ পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২০৯ কোম্পানিকে ১০ হাজার ৭৯২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত কর দিতে হবে। ঢাকা স্টক একচেঞ্জের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুযায়ী, ২০৯টির অবণ্টিত মুনাফা তার পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি। এসব কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন ৫১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা, পুঞ্জীভূত অবণ্টিত মুনাফা ৯৭ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। কর প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এসব কোম্পানিকে অন্তত ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী এ কর প্রস্তাবের পক্ষে বাজেট প্রস্তাবে বলেন, কোম্পানির মুনাফা থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের পরিবর্তে অবণ্টিত মুনাফা বা বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ রেখে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এতে প্রত্যাশিত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, যা শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ প্রবণতা রোধ করতে কোনো কোম্পানির কোনো হিসাব বছরে রিটেইন্ড আর্নিংস (অবণ্টিত মুনাফা), রিজার্ভ ইত্যাদির পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে, যতটুকু বেশি হবে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ হবে।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর দিতে হবে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে। পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি পুঞ্জীভূত মুনাফা রয়েছে এ কোম্পানির। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি টাকা এবং রিজার্ভ ৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। সরকারের হিসাবে অতিরিক্ত রিজার্ভ ৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭৬২ কোটি টাকার কর দিতে হবে তিতাস গ্যাসকে।

এরপরেই রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৮৭৬ কোটি টাকা এবং রিজার্ভ ৫ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। সরকারের হিসাবে অতিরিক্ত রিজার্ভ ৪ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭২২ কোটি টাকার কর দিতে হবে কোম্পানিকে।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৭৮৯ কোটি টাকা এবং রিজার্ভ ৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। সরকারের হিসাবে অতিরিক্ত রিজার্ভ ৪ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।অর্থাৎ ৬৬৫ কোটি টাকার কর দিতে হবে কোম্পনিকে।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৬০৯ কোটি টাকা এবং রিজার্ভ ৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। সরকারের হিসাবে অতিরিক্ত রিজার্ভ ২ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা।অর্থাৎ ৩৩৭ কোটি টাকার কর দিতে হবে কোম্পানিকে।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা এবং রিজার্ভ ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। সরকারের হিসাবে অতিরিক্ত রিজার্ভ ২ হাজার ২২১ কোটি টাকা।অর্থাৎ ৩৩৩ কোটি টাকার কর দিতে হবে বিএটিবিসিকে।

এছাড়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ২৮৭ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংককে ২৭৮ কোটি, যমুনা অয়েলকে ২৭৫ কোটি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে ২৩৫ কোটি টাকা, ইউনিক হোটেলকে দিতে হবে ২৩৩ কোটি, রেনেটাকে ২১৪ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংককে ১৯৩ কোটি, পূবালী ব্যাংককে ১৭৬ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংককে ১৬৭ কোটি টাকা, পদ্মা অয়েলকে দিতে হবে ১৬৪ কোটি, মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে ১৫৯ কোটি, সামিট পাওয়ারকে ১৫৪ কোটি, সিটি ব্যাংককে ১৫২ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংককে ১৫০ কোটি, ডেসকোকে ১৪৯ কোটি, এসিআই লিমিটেডকে ১৪৬ কোটি, বিএসআরএম লিমিটেডকে ১৪৪ কোটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংককে (ইউসিবি) ১৪৪ কোটি, একমি ল্যাবরেটরিজকে ১৪০ কোটি, প্রাইম ব্যাংককে ১২১ কোটি, উত্তরা ব্যাংককে ১১৮ কোটি, বিএসআরএম স্টিলকে ১০৭ কোটি, ইউনাইটেড পাওয়ারকে ১০৫ কোটি ও আইডিএলসি ফিন্যান্সকে ১০০ কোটি টাকা কর দিতে হবে।

মুনাফা ও রিজার্ভ পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে তার তালিকা প্রকাশ করা হলো-

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top