নিষ্ক্রিয় আইপিও বাজার: থমকে আছে প্রাইমারি মার্কেট

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: চলতি বছরের ১২ মার্চ রিং-সাইন টেক্সটাইলের আইপিও অনুমোদনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোনো অনুমোদন দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া রিং-সাইনের আইপিও অনুমোদনের তিন মাস পার হলেও কোম্পানিটি এখনো কনসেন্ট লেটারই পায়নি। যে কারণে প্রাথমিকভাবে রিং-সাইনের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিলেও কাগজ-কলমে কোনো অনুমোদন দেয়নি। রিং-সাইনের আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সী-পার্লের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অর্থাৎ গেল ৪ মাস ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে আইপিও বাজার। একদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটের বেহাল অবস্থা অন্যদিকে প্রাইমারি মার্কেটের থমকে থাকা দুটোই সামগ্রিক পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, মূলত আইপিও নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় কমিশন এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বুক বিল্ডিং এবং ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে বেশকিছু কোম্পানির আইপিও পাইপলাইনে থাকলেও পাবলিক ইস্যু রুলস,২০১৫ এর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কোনো আইপিও’র বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদিও কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিলো যে, নতুন আইপিও আইন প্রণয়ন হওয়ার আগে যেসব কোম্পানি আইপিও অনুমোদনের পাইপলাইনে রয়েছে সেগুলোকে আগের নিয়মেই অনুমোদন দেওয়া হবে। কিন্তু সে সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবতা গেল তিন মাস ধরে দেখা যাচ্ছে না। তবে শেয়ারবাজারটা একটু ঘুরে দাঁড়ালেই আইপিও’র অনুমোদন প্রক্রিয়া ফের চালু হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে চলতি বছরে ফিক্সড প্রাইসে ৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো: এসএস স্টীল, জেনেক্স ইনফোসিস, নিউ লাইন ক্লোথিং এবং সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। অন্যদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এ্যাস্কয়ার নিট এবং রানার অটোমোবাইল তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৬টি কোম্পানি।

উল্লেখিত সব কোম্পানিরই আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত বছর। চলতি বছর কমিশন শুধুমাত্র ‍বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসকে বিডিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া সী-পার্ল এবং রিং-সাইন টেক্সটাইল লিমিটেডকে ফিক্সড প্রাইসে আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ মাত্র তিনটি কোম্পানি চলতি বছর আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুমোদন পেয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এ হাফিজ শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাইমারি মার্কেট চাঙ্গা রাখার কোনো বিকল্প নেই। কারণ প্রাইমারি মার্কেটের মাধ্যমেই কোম্পানির পুঁজি উত্তোলন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে,কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। একটি দেশের উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা অনেক। আর সে ভূমিকা রাখা হয় প্রাইমারি মার্কেট তথা নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে। বাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ করে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এ কারণে বাজারে নতুন কোম্পানি আসতে দিতে হবে। তবে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। এতে কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে। পুঁজিবাজারে যেন দুর্বল কোম্পানি প্রবেশ করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করতে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top