আলহাজ্ব টেক্সটাইলের শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার চালাকি নয়তো?


গত ১৯.০৬.১৯ ইং তারিখে কোম্পানিটি শেয়ারের দর ৭৬ টাকায় লেনদেন করতে দেখা গেলেও। শুধু একসপ্তাহে ব্যবধানে ২৭.০৬.১৯ইং তারিখে শেয়ারটির দর ৬০ টাকার মধ্যে লেনদেন চলছে। মাত্র ৭ কার্যদিবসে শেয়ারটি দর হারায় ১৬ টাকার মত। এক মাসের জন্য উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কোম্পানির এমন আত্মঘাতী সিন্ধান্তের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হাজার হাজার বিনিয়োগকারীগন।

আলহাজ্ব টেক্সটাইল এর মত সুনামধন্য একটি কোম্পানি এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে তা আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীগন কল্পনাও করতে পারি না। বিগত ২০১৮ সালের সমাপ্ত অর্থ বছরের জন্য কোম্পানিটি ১০% স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে ছিলো এবং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে ডিভিডেন্ড দেওয়ার ধারাবাহিকতা রয়েছে আলহাজ্ব টেক্সটাইলের মত খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, আলহাজ্ব টেক্সটাইলের পণ্যের চাহিদার ঘাটতির কারনে বিক্রয় কমে গেছে। এমতাবস্থায় নতুন পণ্য উৎপাদন করে, তা গুদামজাতকরনের জন্য জায়গা নেই। কারন বিক্রয় ঘাটতির কারনে এরইমধ্যে পণ্যে গুদাম ভর্তি হয়ে রয়েছে মানলাম।

আমরা মনে করি একটি মগ থেকে আর একটি গ্লাসে পানি যখন ডালা হয়। গ্লাস পরিপূর্ণ হলে পানি ডালা আমরা বন্ধ করেদি। সে রকম ভাবে আলহাজ্ব টেক্সটাইলের গুদামঘরে পন্য সামগ্রিই রাখা মত জায়গা নেই সে জন্য তারা উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে সাভাবিক ব্যাপার। বাংলাদেশে আলহাজ্ব টেক্সটাইলের মত আরও অনেক গুলো কোম্পানি রয়েছে সেখানে নিশ্চয় তাদেরও ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা চলছে শুধু কি একা আলহাজ্ব টেক্সটাইলের বেলায় মন্দা ভাব নেমে এসেছে প্রশ্ন রহিলো?

তারা এও বলেছেন তাদের মুলধন এর ঘাটতি রয়েছে যেখানে গত বছর ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের দ্বৈত বেঞ্চ আলহাজ টেক্সটাইল লিমিটেডকে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অগ্রনী ব্যাংক যেখানে আলহাজ্ব টেক্সটাইল কে পাওয়া বাবদ ৩৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে এবং এই টাকা আবার আলহাজ্ব টেক্সটাইল ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রেখে দিয়েছে এই টাকার মালিকতো সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগন ও রয়েছেন। তাহলে তাদের মুলধনের ঘাটতি কোথায় প্রশ্ন রহিলো?

টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি প্রণোদনা ২০১৯-২০ প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে চারটি খাত (ওভেন, নিট, সোয়েটার ও টেক্সটাইল) ৪% হারে প্রণোদনা পাচ্ছে সেগুলোর বাইরে থাকা অন্য সব খাতকে ১% হারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এজন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আরও দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে উক্ত খাতে এই থেকে আর ভালো সুসংবাদ কি হতে পারে।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২ সিসি এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ক্ষমতা বলে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন সংশোধন করতে যাচ্ছে। যেখানে সকল পরিচালকদের কে সম্মিলিতভাবে ভাবে ৩০% শতাংশ একক ভাবে ২% শেয়ার ধারণ করতে হবে।

ডিএসই ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, আলহাজ্ব টেক্সটাইলের পরিচালকবৃন্দের হাতে মাত্র ১২.৭৮% শেয়ার ধারণ রয়েছে যেখানে ৩০% শেয়ার ধারণের কথা রয়েছে। সরকারের হাতে দেখা যাচ্ছে ০.০৩% এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হাতে রয়েছে ৮.৯৪%, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭৮.৪৪% শেয়ার।

কোম্পানির ভাষ্যমতে গত ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানিটির এক মাসের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ১ মাসের মধ্যে যদি চলতি মূলধন সংকট কেটে যায়, তাহলে কারখানা চালু করা সম্ভব হবে।

একটি কোম্পানির শেয়ার দর কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক বাড়ছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ থেকে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করতে পারলে। তেমনিভাবে দাম কমার বেলায় কেনো জানতে চাওয়া হয় না। অনুরোধ রহিলো।

অসত্য উদ্দেশ্য কারণে কোন প্রকারের কারসাজি করা হলে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তদন্ত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে অনেক কোম্পানির ভবিষ্যতে এমন আত্মঘাতী সিন্ধান্তের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীর বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

মোহাম্মদ মামুন
বিনিয়োগকারী
রয়েল ক্যাপিটাল, ফেনী শাখা, ফেনী।

আপনার মন্তব্য

Top