শেয়ারবাজার শিক্ষা: করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড ( পর্ব-০২)

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানিতে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) জারি করা করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড বাধ্যতামূলকভাবে পরিপালন করতে হয়। গত পর্বে করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হয়েছিল। আজ শেয়ারবাজার শিক্ষার এই কলামে করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের দ্বিতীয় পর্ব তুলে ধরা হলো:

(৪) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের দ্বৈততা:

(ক) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের (সিইও) পদ আলাদা ব্যক্তি দ্বারা পূরণ করতে হবে।

(খ) এক তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক/চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের (সিইও) অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির একই পদে থাকতে পারবেন না।

(গ) বোর্ডের চেয়ারপারসন কোম্পানির নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

(ঘ) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের (সিইও) নিজ নিজ ভূমিকা এবং দায়িত্ব বোর্ড সুষ্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেবে।

(ঙ) বোর্ডের চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতে, সংশ্লিষ্ট বোর্ড মিটিংয়ে বোর্ডের অন্যান্য নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালকরা তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত করবেন এবং মিনিটস বুকে নিয়মিত চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতির কারণ উল্লেখ করতে হবে।

(৫) শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি পরিচালকদের প্রতিবেদন:

কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ১৮৪ ধারা মোতাবেক তৈরিকৃত পরিচালকদের প্রতিবেদনের (ডিরেক্টর’স রিপোর্ট) সঙ্গে নিম্নোক্ত বিবরণ (স্টেটমেন্ট) যোগ করে প্রকাশ করবে।

(ক) ইন্ডাষ্ট্রি আউটলুক (সংশ্লিষ্ট শিল্পের বর্তমান অবস্থা) এবং ভবিষ্যতে শিল্পের সম্ভাব্য উন্নয়ন।

(খ) সেগমেন্ট অথবা প্রডাক্ট অনুযায়ী পারফরমেন্স।

(গ) অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত ঝুঁকি। টিকে থাকার হুমকি (থ্রেট) এবং পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব, যদি থাকে।

(ঘ) বিক্রিত পণ্যের ব্যয় (কস্ট অব গুডস সোল্ড), গ্রস প্রফিট মার্জিন এবং নেট প্রফিট মার্জিন নিয়ে আলোচনা, যেখানে প্রযোজ্য।

(ঙ) লাভ বা লোকসানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রভাব ফেলা কোনো বিশেষ কাজ নিয়ে আলোচনা।

(চ) রিলেটেড পার্টি ট্রান্সজেকশনের বিস্তারিত প্রতিবেদন। যেমন: লেনদেনের পরিমাণ, রিলেটেড পার্টির ন্যাচার, ট্রানজেকশনের ন্যাচার, ট্রানজেকশনের ব্যাসিস ইত্যাদি।

(জ) আইপিও, রাইট ইস্যু কিংবা অন্য কোন উপায়ে উত্তোলিত মূলধন ব্যবহারের স্টেটমেন্ট।

(ঝ) আইপিও, আরপিও, রাইট অফার, ডিরেক্ট লিস্টিং ইত্যাদিতে যাওয়ার পর যদি আর্থিক অবস্থা অধিকতর মন্দা হয় সেগুলোর ব্যাখ্যা।

(ঞ) প্রান্তিক ফিন্যান্সিয়াল পারফর্মেন্সের সঙ্গে বার্ষিক ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টে অমিল দেখা দিলে সেটির ব্যাখ্যা।

(ট) স্বাধীন পরিচালকসহ অন্যান্য পরিচালকদের সম্মানী প্রদানের স্টেটমেন্ট।

(ঠ) ইস্যুয়ার কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে তৈরিকৃত ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টে অপারেশনাল রেজাল্ট, ক্যাশ ফ্লো, চেঞ্জ ইন ইক্যুইটি নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এমন স্টেটমেন্ট।

(ড) ইস্যুয়ার কোম্পানির বুকস অব অ্যাকাউন্টস সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এমন স্টেটমেন্ট।

(ঢ) ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে যথাযথ অ্যাকাউন্টিং পলিসি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং অ্যাকাউন্টিং এস্টিমেটস (বরাদ্দ) যৌক্তিক এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে এমন স্টেটমেন্ট।

(ণ) ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট তৈরিতে বাংলাদেশে প্রযোজ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইএএস) অথবা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইএফআরএস) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এমন স্টেটমেন্ট।

(ত) ইন্টারনাল কন্ট্রোল সিস্টেম নির্ভরযোগ্যভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি যথাযথভাবে প্রয়োগকৃত ও নিয়ন্ত্রিত এমন স্টেটমেন্ট।

(থ) মাইনোরিটি শেয়ারহোল্ডাররা (সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার) অবমাননাকর কার্যকলাপ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ থেকে নিরাপদ এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে এমন স্টেটমেন্ট।

(দ) কোম্পানির সামনে এগিয়ে যেতে বা চলমান থাকতে (গোয়িং কনসার্ন) কোনো বাধা নেই এমন স্টেটমেন্ট। যদি কোম্পানিটি গোয়িং কনসার্ন না থাকতে পারে সেটির কারণ উল্লেখ করে স্টেটমেন্ট।

(ধ) ইস্যুয়ার কোম্পানির গত বছরের অপারেটিং রেজাল্টের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলে তার কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা।

(ন) গত ৫ বছরের অপারেটিং এবং ফিন্যান্সিয়াল তথ্যের স্টেটমেন্ট।

(প) ইস্যুয়ার কোম্পানি সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ডিভিডেন্ড (ক্যাশ/স্টক) ঘোষণা না করলে তার কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা।

(ফ) ইন্টারিম ডিভিডেন্ড (অন্তবর্তীকালীন ডিভিডেন্ড) হিসেবে বোনাস বা স্টক দেওয়া হয়নি এমন স্টেটমেন্ট।

(ব) বছরে অনুষ্ঠিত মোট বোর্ড মিটিংয়ের সংখ্যা এবং পরিচালকদের উপস্থিতির বিবরণ।

(ভ) কোম্পানির শেয়ারহোল্ডিং অবস্থান-

(১) প্যারেন্ট বা সাবসিডিয়ারি বা অ্যাসোসিয়েট কোম্পানি এবং অন্যান্য রিলেটেড পার্টির।

(২) পরিচালকবৃন্দ, চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, কোম্পানি সেক্রেটারি,

হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স এবং তাদের স্ত্রী,নাবালক সন্তানদের (নামসহ)।

(৩) নির্বাহীদের (এক্সিকিউটিবস)। ব্যাখ্যা: শীর্ষ ৫ বেতনভোগী কর্মকর্তা।

(৪) কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণকারী শেয়ারহোল্ডার অথবা কোম্পানিতে বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগকারী (নামসহ)।

(ম) পরিচালকদের নিয়োগ বা পুন:নিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে প্রকাশ করতে হবে-

(১) পরিচালকের সংক্ষিপ্ত জীবনী।

(২) বিশেষ ক্ষেত্রে তার দক্ষতা।

(৩) অন্য যে কোম্পানিতে পরিচালক পদে রয়েছেন

এবং বোর্ড কমিটির মেম্বারশীপ।

(য) কোম্পানির অবস্থান, অপারেশন এবং ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টের পরিবর্তন সম্পর্কে সিইও বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আলোচনা এবং বিশ্লেষণ।

(র) সিইও এবং সিএফও কর্তৃক এনেক্সার-এ’তে বর্ণিত কন্ডিশন নং ৩(৩) পূরণ করা হয়েছে এমন ঘোষণা অথবা প্রত্যায়ন।

(ল) এনেক্সার-বি এবং এনেক্সার-সি’তে বর্ণিত কন্ডিশন নং ৯ পূরণ করা হয়েছে এমন প্রতিবেদনের সঙ্গে সার্টিফিকেট।

চলবে……..

১ম পর্বের লিঙ্ক:

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

Top