বিনিয়োগকারীরা আর কতো ধৈর্য্য ধরবে

শেয়ারবাজারে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করুন, ধৈর্য্য ধরুন, বাজারের প্রতি আস্থা রাখুন, বিনিয়োগ শিক্ষা অর্জন করুন, মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করুন ইত্যাদি উপদেশ শুনতে শুনতে বিনিয়োগকারীদের কান ঝালা-পালা হয়ে গেছে। তবুও মানা যেতো যদি নিজের পুঁজি ঠিক-ঠাক থাকতো। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে বাজারের পতনে ততই অস্থির হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থা রাখলে বাজার ভালো হবে। কিন্তু বাজারই যদি ভালো না থাকে তাহলে আস্থাটা রাখবে কোথায় সে উত্তর কেউ দিচ্ছেন না। এ যেন ডিম আগে না মুরগি আগে সেই অবস্থা তৈরি হয়েছে। ধৈর্য্য ধরতে ধরতে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমনিতেই সামগ্রিক বাজারের অবস্থা খারাপ তারপর পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন, ডি-লিস্টিং আতঙ্ক যেন মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাজারকে টেনে তুলতে উপদেশের কোনো টনিকই কাজ করছে না। খোদ প্রধানমন্ত্রী বাজার নিয়ে ইতিবাচক কথা বললেও এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ছে না। বারংবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু তাতেও বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না। গেল মাসের পুরোটা কেটেছে বাজেট আতঙ্কে। স্টক ডিভিডেন্ড এবং রিটেইনড আর্নিংস-রিজার্ভের ওপর কর আরোপের পর থেকেই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারণ স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর করারোপ করার ফলে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংক,বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ কর দিতে হবে। বাজারে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করে এমন ব্যাংক,বীমা,নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হাতে গোনা কয়েকটা। তাই কর প্রদান করার জন্য যে বাড়তি খরচ বহন করতে হবে এতে ঘুরে ফিরে বিনিয়োগকারীরাই ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হবে।

যদিও বাজারকে টেনে তুলতে বিএসইসি’র আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু বাজারের মূল সমস্যাটা কোথায় সেটি খুঁজে বের করা যাচ্ছে না। বারংবার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমাধান মিলছে না। পজেটিভ খবর ছড়িয়ে জোর করে কিছুদিন টেনে তোলা গেলেও আবার আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে বাজার। বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে কোনো লাভ হচ্ছে না। অনেকেই এই বাজারের মূল সমস্যাটা তারল্য সংকট দেখিয়ে বলেন বাজারে টাকা নেই। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে, কয়েকদিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে কোনো তারল্য ঘাটতি থাকে না। আসলে বর্তমানে কেউ মার্কেটে মেকারের ভূমিকা পালন করছে না। রিটেইল ইনভেস্টররা কখনোই বাজারকে টেনে তুলতে পারবে না এটা কম-বেশি সবাই স্বীকার করেন। এ মার্কেটকে টেনে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন। আইসিবি-লঙ্কাবাংলার মতো শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা একযোগে কাজ করলে বাজারে অবশ্যই গতি ফিরবে। দীর্ঘদিন পর সরকারি কোম্পানি আশুগঞ্জ পাওয়ার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে যা বাজারের জন্য ইতিবাচক। এই মার্কেটে ইউনিলিভারের মতো কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আসলে বাজারের চিত্রই পাল্টে যাবে যেমনটি হয়েছিল গ্রামীন ফোনের বেলায়। অনেকদিন ধরে প্রাইমারি মার্কেট নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। নতুন কোনো কোম্পানি মার্কেটে আসছে না। সেকেন্ডারি মার্কেটে খারাপ অবস্থা থাকলেও এতোদিন প্রাইমারি মার্কেটে ভাইব্রেন্ট ছিলো। কিন্তু বর্তমানে আইপিও আইন সংশোধনের কারণে এ মার্কেটটিও নিষ্প্রাণ হয়ে আছে। সবদিক বিবেচনা করলে পুরো পুঁজিবাজার একটি কঠিন জটলার মধ্যে আটকে আছে। এই জটলাকে খুলে দিতে হবে…..

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top