শেয়ারবাজার শিক্ষা: করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড (৫ম পর্ব)

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ইতিমধ্যে এই কোডের চারটি পর্ব প্রকাশিত হয়েছে। আজ প্রকাশিত হলো ৫ম পর্ব।

(৫) অডিট কমিটির ভূমিকা:

অডিট কমিটি:-

(ক) ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং প্রক্রিয়া তদারকি করবে।

(খ) অ্যাকাউন্টিং পলিসি এবং নীতি গ্রহণে পরামর্শ দেবে।

(গ) ইন্টার্নাল অডিট এবং কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত রিসোর্স নিশ্চিত করা, ইন্টার্নাল অডিট এবং কমপ্লায়েন্স প্ল্যান অনুমোদন এবং রি-ভিউ করার ক্ষেত্রে পরামর্শ দেবে।

(ঘ) এক্সটার্নাল অডিটরের নিয়োগ এবং পারফরমেন্স তদারকি করবে।

(ঙ) বোর্ডের গ্রহন বা অনুমোদনের জন্য বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বোর্ডে উপস্থাপনের আগে তা রি-ভিউ করতে এক্সটার্নাল বা স্ট্যাচুটরি অডিটরের সঙ্গে মিটিংয়ের আয়োজন করবে।

(চ) বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বোর্ডে উপস্থাপনের আগে তা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে রি-ভিউ করবে।

(ছ) কোয়াটার্লি (প্রান্তিক) এবং অর্ধ-বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বোর্ডে উপস্থাপনের আগে তা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে রি-ভিউ করবে।

(জ) ইন্টার্নাল অডিট কার্যক্রমের সক্ষমতা নিয়ে রি-ভিউ বা পর্যালোচনা করবে।

(ঝ) বার্ষিক প্রতিবেদন (অ্যানুয়াল রিপোর্ট) প্রকাশের আগে ম্যানেজমেন্টের আলোচনা এবং বিশ্লেষণ রি-ভিউ করবে।

(ঞ) ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক উপস্থাপিত সকল রিলেটেড পার্টি ট্রানজেকশনের প্রতিবেদন রি-ভিউ করবে।

(ট) ম্যানেজমেন্ট লেটার অথবা স্ট্যাচুটরি (বিধিবদ্ধ) অডিটর কর্তৃক ইন্টার্নাল কনট্রল উইকনেস সংক্রান্ত চিঠি রি-ভিউ করবে।

(ঠ) ফলপ্রসু অডিটের জন্য দক্ষতার লেভেল বিবেচনায় অডিট ফি নির্ধারণ এবং এক্সটার্নাল অডিটরের পারফরমেন্স মূল্যায়ন তদারকি করবে।

(ড) কমিশনের অনুমোদিত প্রসপেক্টাস বা অফার ডকুমেন্টে উল্লেখিত আইপিও বা আরপিও বা রাইট অফারের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার তদারকি করবে।

শর্ত থাকে যে, ম্যানেজমেন্ট কোয়াটার্লি ব্যাসিসে ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এক্সপেন্স, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ইত্যাদির ব্যবহার সংক্রান্ত রিপোর্ট অডিট কমিটির কাছে প্রকাশ করবে।

আরো শর্ত থাকে যে, কোম্পানি বছর ভিত্তিতে বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রতিবেদনের সঙ্গে অডিট কমিটির মন্তব্যও প্রকাশ করবে।

(৬) অডিট কমিটির রিপোর্টিং:

(ক) পরিচালনা পর্ষদের কাছে রিপোর্টিং:

(১) অডিট কমিটি তার কার্যক্রমের রিপোর্ট বোর্ডের কাছে জমা দেবে।

(২) অডিট কমিটি জরুরি ভিত্তিতে বোর্ডের কাছে রিপোর্ট করবে যদি দেখা যায়:-

(ক) কমফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা স্বার্থের সংঘাত হয়েছে।

                                                             (খ) ইন্টার্নাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়ায় বা আর্থিক প্রতিবেদনে সন্দেহজনক বা প্রতারণার সম্ভাব্যতা বা অনিয়ম বা মেটারিয়াল ত্রুটি হলে।

(গ) আইন, সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন, রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনসহ রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্সের লঙ্ঘনের সন্দেহ থাকলে।

(ঘ) যেকোন বিষয় যা অডিট কমিটির কাছে মনে হয় যে তা বোর্ডের কাছে প্রকাশ করা জরুরি।

(খ) অথরিটির কাছে রিপোর্টিং:

যদি অডিট কমিটি এমন কোনো বিষয় যা আর্থিক অবস্থায় এবং অপারেশনে প্রভাব ফেলবে এবং এর সংশোধন জরুরি; বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করে, বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে, কিন্তু অডিট কমিটি যদি দেখে সংশোধনী উপেক্ষা করা হয়েছে তাহলে অডিট কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কমিশনের কাছে রিপোর্ট করবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয় বোর্ডের কাছে তিন বার রিপোর্ট করা অথবা প্রথম রিপোর্টের ৬ মাস (যেটি আগে) অতিবাহিত হতে হবে।

(৭) শেয়ারহোল্ডার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতি রিপোর্টিং:

উপরে উল্লেখিত শর্ত নং ৫(৬)(ক)(২) অনুসারে বোর্ডের জন্য রিপোর্টের সঙ্গে অডিট কমিটির কার্যক্রমের রিপোর্ট অডিট কমিটির চেয়ার পারসন কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে এবং ইস্যুয়ার কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে তা প্রকাশিত হবে।

৬.  নমিনেশন অ্যান্ড রেমিউনেরেশন কমিটি

(১) পরিচালনা পর্ষদের প্রতি দায়িত্ব:

(ক) বোর্ডের সাব-কমিটি হিসেবে কোম্পানির একটি নমিনেশন অ্যান্ড রেমিউনেরেশন কমিটি কমিটি থাকবে।

(খ) পরিচালক এবং টপ লেবেল এক্সিকিউটিভদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইতিবাচক গুণ এবং স্বাধীনতা বিবেচনা করে নমিনেশন ক্রাইটেরিয়া অথবা পলিসি তৈরি এবং পরিচালক ও টপ লেবেল এক্সিকিউটিভদের রেমিউনেরেশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বিবেচনার জন্য পলিসি তৈরি করতে এনআরসি বোর্ডকে সহযোগিতা করবে।

(গ) এনআরসি’র টার্মস অব রেফারেন্স (ভূমিকা ও কার্যাবলী) শর্ত নং ৬(৫)(খ)’তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) এনআরসি’র গঠন:

(ক) স্বাধীন পরিচালকসহ এনআরসি কমিটি কমপক্ষে তিন সদস্য দ্বারা গঠিত হবে।

(খ) কমিটির সকল মেম্বার নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালক হবেন।

(গ) কমিটির মেম্বাররা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত এবং নিয়োগকৃত হবেন।

(ঘ) কমিটির যেকোন সদস্যকে অপসারণ এবং নিয়োগের ক্ষমতা বোর্ডের থাকবে।

(ঙ) কমিটির কোন সদস্যের মৃত্যু, পদত্যাগ, অযোগ্যতা অথবা অপসারণের কারণে পদ শুন্য হলে তা ১৮০ দিনের মধ্যে বোর্ড শুন্য পদ পূরণ করবে।

(চ) কমিটির চেয়ার পারসন যদি মনে করে কমিটির জন্য বহিরাগত বিশেষজ্ঞ বা স্ট্যাফের সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন তাহলে চেয়ার পারসন কমিটির নন-ভোটিং মেম্বার হিসেবে সদস্য নিয়োগ দিতে পারে।

(ছ) কোম্পানি সেক্রেটারি কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

(জ) কমপক্ষে একজন স্বাধীন পরিচালক ছাড়া এনআরসি কমিটির কোরাম গঠিত হবে না।

(ঝ) কোম্পানির কাছ থেকে সম্মানি বা পরিচালক ফি ছাড়া এনআরসি কমিটির সদস্যরা অ্যাডভাইজরি বা কনসালট্যান্সির জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন না।

চলবে…..

প্রথম পর্বের লিঙ্ক:

দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক:

তৃতীয় পর্বের লিঙ্ক:

চতুর্থ পর্বের লিঙ্ক:

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top