প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেন বিনিয়োগকারীরা: ১৫ দাবির স্মারকলিপি পেশ


শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের চলমান পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীলতা দূর করে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আজ ১৮ জুলাই বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ.কে.এম মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৫ দফা দাবিসমূহ হলো:

০১. ইস্যুমূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানি/কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যুমূল্যে শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।

০২. ২ সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যেসকল কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২% এবং সম্মিলিতভাবে ৩০% শেয়ার নেই, ঐসকল উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

০৩. প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের লকইন পিরিয়ড ৫ বছর করতে হবে। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সকল আইপিও, রাইট শেয়ার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

০৪. খন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৫. জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বলতে কোনো মার্কেট থাকতে পারবে না। কোম্পানি আইনে কোথাও জেড ক্যাটাগরি ও ওটিসি মার্কেটের কথা উল্লেখ নেই।

০৬.পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫ বাতিল করতে হবে।

০৭. পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে বাধ্য করতে হবে এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০% অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে।

০৮. সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা ৮০% করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে কমপক্ষে ১০% হারে লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে।

০৯. জানুয়ারি ২০১১ হতে জুন,২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

১০. পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ ৩% সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে ৫% হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।

১১. অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

১২. জীবন বীমা খাতের বিপুল পরিমাণ অলস এবং সঞ্চিত অর্থের ৪০% পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করতে হবে।

১৩. জীবন বাঁচাতে এবং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার মামলা প্রত্যাহার এবং পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

১৪. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিবর্তে বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ নামে বিকল্প স্টক এক্সচেঞ্জ করতে হবে। এর ফলে কারসাজি বন্ধ হবে।

১৫. পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনারদের অপসারণ করে কমিশন পুন:গঠন করতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top