লিবরা ইনফিউশন ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের তুমুল অন্তর্দ্বন্দ্ব

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লিবরা ইনফিউশন ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে তুমুল অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক কোম্পানি অন্য কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছে। প্রথম লিবরা ইনফিউশন কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধের পেছনে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলসি বন্ধ করে দেওয়াসহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ উত্থান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে লিবরা ইনফিউশন। এই বিজ্ঞপ্তির পরপরই আল-আরাফাহ্ ইসলামী লিবরা ইনফিউশনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রতিবাদ প্রকাশ করে। আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের এরকম বক্তব্যের পর আজ আবার লিবরা ইনফিউশন ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পুনরায় প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে।

লিবরা ইনফিউশনের কোম্পানি সচিব এস.আই ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রকাশিত প্রতিবাদে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কোম্পানির সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্য আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের প্রদত্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক এবং বাস্তব অবস্থার পরিপন্থী। লিবরা ইনফিউশন দীর্ঘ ২১ বছর অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বিগত ২০০৯ইং সালের শেষ নাগাত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ব্যবস্থাপনা পরিষদ লিবরা ইনফিউশনের কারখানা পরিদর্শনে এসে “Sky is the Limit” বলে প্রলোভন দেখিয়ে অগ্রনী ব্যাংক থেকে ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর তারিখ টেকওভার করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সেন্কশন লেটারে আল-আলাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের যেরূপ সেন্কশন দেয়ার কথা ছিল তা প্রতিপালন করে নাই। যার ফলশ্রুতিতে লিবরা ইনফিউশন রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড লিবরা ইনফিউশনের এলসি (ঋণপত্র) বন্ধ রেখেছে যা তারা তাদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করেছে এবং পরিপূর্ণ পারি পাসু দিতে স্বীকার করলেও পরবর্তীতে তারা পারি পাসু দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এটাও প্রতিবাদে উল্লেখ করে, যা সত্যতায় প্রমানিত হয়। ব্যাংক তাদের ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট তারিখের পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ২য় প্যারায় উল্লেখ করেছে যে, সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বীকৃত মঞ্জুরীপত্রের শর্ত অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় বিনিয়োগ দায় অনিয়মিত হয়ে পড়ে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ফজলুল করিম অত্র ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের যোগসাজশে লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ১.১৪ কোটি টাকা ব্যাংক কোম্পানির একাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলে যার বিষয়ে দুদকে মামলা চলমান আছে, যার মামলা নং ২৯৩/২০১৫। এর প্রতিবাদ করলে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজমেন্ট তাদের পত্র নং এআইবিএল/এমসিবি/বৈ:বা/২০১৫/২০৬০ তারিখ ০৬.০৭.২০১৫ ইং তে উল্লেখ করে যে, “কোম্পানি ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করায় মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় কর্তৃক কোম্পানিকে ব্যাংকিং সুবিধা না প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে” যা ব্যাংকের প্রচলিত নিয়মের নজিরবিহীন ঘটনা। এই মর্মে লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেডের সমস্ত এলসি (ঋণপত্র) এবং সাধারণ ব্যাংকিং ৪ বছরের জন্য বন্ধ করে রেখেছিল। একদিকে কোম্পানিকে বন্ধ করে রুগ্ন শিল্পে পরিণত করল অপরদিকে ব্যাংক সুদ/মুনাফা করতে লাগলো যা নজিরবিহীন এবং ন্যায়নীতির চরম বরখেলাপ। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট তারিখে ইউনিট-২ তে বিনিয়োগ করার শর্তে ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের দায়দেনা পরিশোধের লক্ষ্যে সোলেনামা ও আপোষনামা সম্পাদিত হলেও ব্যাংক তাদের পত্র নং এআইবিএল/মতি:কর্পো:বিনি/২০১৯/৭০৩ তারিখ ০২-০৫-২০১৯ এ বলেছে যে, এই মুহূর্তে ব্যাংকের আমানতের অপর্যাপ্ততার কারণে বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের অনুমোদনকৃত ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ড থেকে ১ বছর অতিবাহিত হলেও পরবর্তীতে লিবরা ইনফিউশন কিভাবে ব্যাংকের দায়দেনা পরিশোধ করবে তার সঠিক দিক নির্দেশনা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক প্রদান করতে ব্যর্থ হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top