ভালো শেয়ারের দরপতনেও তদন্ত হওয়া উচিত

কোন একটি শেয়ারের দর বৃদ্ধি অস্বাভাবিক মনে হলেই স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে সবসময়ই শেয়ারের দর বৃদ্ধির জন্য কোন অপ্রকাশিত তথ্য রয়েছে কিনা তা কোম্পানির কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়। এ পর্যন্ত এমন কোন কোম্পানি পাওয়া যায়নি যেগুলো শেয়ার দর বৃদ্ধি পেছনে অপ্রকাশিত তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে। কারণ অপ্রকাশিত তথ্য থাকলেও যদি স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হয় তাহলে উল্টো পানিসমেন্টটা তার ঘাড়েই পড়ে যাবে। যে কারণে স্টক এক্সচেঞ্জের গদবাধা প্রশ্নে কোম্পানিরও গদবাধা উত্তর থাকে। বাস্তবতায় দেখা গেছে শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার কিছুদিন পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অথবা নিউজ প্রকাশ করা হয়। এরপরেই সেই কোম্পানির শেয়ার দর কমে যায়। অর্থাৎ তথ্য আগে থেকেই পাচার হয়ে যায়। অনেক নিম্নমানের ছোট কোম্পানি যাদের ব্যবসাই হয় বছরে কয়েক কোটি টাকা সেগুলোর ক্ষেত্রে এরকম চিত্র বর্তমান বাজারে অহরহ ঘটছে।

কিন্তু যখন কোন ভালো কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক কমে যায় তখন বিনিয়োগকারীরা হায় হায় করলেও স্টক এক্সচেঞ্জের সে বিষয়ে কোন মাথাব্যাথা থাকে না। টানা দরপতন থেকে সামগ্রিক বাজারকে টেনে তুলতে ভালো শেয়ারের দর বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ক্রান্তিলগ্নে দেখা যাচ্ছে কিছু বস্তপঁচা লো-পেইড আপের শেয়ার দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারা কিনছে এসব শেয়ার সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং থাকলেও কোন অ্যাকশন লক্ষ্য করা যায় না। কারণ আইনী কাঠামোর বাইরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিছু করতে পারে না। কিন্তু ভালো শেয়ারের অস্বাভাবিক দরপতন কেন হচ্ছে সে বিষয়েতো তদন্ত করা যেতে পারে।

অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ খুঁজতে এখন পর্যন্ত তিতাস গ্যাস ছাড়া আর কোন কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে এরকম দৃশ্যত কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ২০১৫ সালের শেষে  তিতাস গ্যাসের শেয়ার দর ৭৪ টাকা থেকে ৪৮ টাকায় নেমে আসায় কমিশন তদন্ত করেছিল। যদিও সেই তিতাস গ্যাসের শেয়ার দর আর আগের জায়গায় ফিরে যায়নি। বছরে ২০ শতাংশের ওপর ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিলেও এর শেয়ার দর ৪০ এর নিচে অবস্থান করছে। বর্তমানে শুরু হয়েছে গ্রামীন ফোন ইস্যু। ২০১৮ সালের ফেব্রয়ারিতে জিপি’র শেয়ার দর ৫০০ টাকায় দাপিয়ে বেড়ালেও বর্তমানে ৩০০ টাকার নিচে অবস্থান করছে। এসিআই লিমিটেডের শেয়ার দর ৬০০ টাকা থেকে নামতে নামতে আড়াইশ টাকায় চলে এসেছে।

বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় সবাই বলে থাকেন যে, গ্রামীন ফোনের শেয়ার দর কমা বা বাড়ার পেছনে সামগ্রিক বাজারের সূচকের উত্থান-পতন অনেকটা নির্ভর করে। বাস্তবতায় তাই দেখা গেছে। গত ২৭ আগস্ট থেকে টানা ৬ কার্যদিবস জিপি’র শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে একই সময় থেকে টানা ৬ কার্যদিবসই মার্কেট ফল করেছে। আজ জিপি’র শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে অন্যদিকে মার্কেটের সূচকও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। গোটা মার্কেট কখনোই এক-দুটি কোম্পানির ওপর নির্ভর নয় সেটা সবাই মেনে নেয়। কিন্তু এখানে আস্থার কথা বলা হচ্ছে।

ভালো কোম্পানির শেয়ারের যখন টানা দরপতন হয় তখন বিনিয়োগকারীদেরও পুরো মার্কেটের ওপর থেকে আস্থা কমে যায়। তাই শেয়ার দর বৃদ্ধি পেলে স্টক এক্সচেঞ্জের যেমন কারণ দর্শানোর নোটিশ থাকে তেমনি শেয়ার দর অস্বাভাবিক কমে গেলেও কারণ দর্শানোর নোটিশ থাকা উচিত। তদন্ত থাকা উচিত। কেন ভালো কোম্পানির শেয়ার দরে অস্বাভাবিক দরপতন হয় তা তদন্ত করে বের উচিত। আর বিনিয়োগকারীদের সম্মুখে সে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ জানানো উচিত।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top