আতঙ্কে সেল প্রেসার নয়: পুঁজিবাজারের সুদিন আসছে

বেশ কিছুদিন ধরে সামগ্রিক পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করেছে। টানা দরপতনে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও’র অবস্থা অনেক খারাপ পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আস্থা সংকট বিরাজ করছে। যে কারণে অনেক বিনিয়োগকারী সামনে বাজার আরো খারাপ হতে পারে সেই আতঙ্কে লোকসানের মধ্যেও শেয়ার বিক্রি করে বের যাচ্ছেন। এতে অত্যধিক সেল প্রেসার তৈরি হওয়ায় সামগ্রিক পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আর বিনিয়োগকারীদের সেই আতঙ্ক দূর করতে বাজারে নতুন ফান্ড বিনিয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানারকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার‌ল্য সংকট কাটিয়ে বাজার ভালো করার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আইসিবি’র মাধ্যমে শেয়ার কিনে বাজার রক্ষার জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে বাজার পজেটিভ রাখার জন্য আইসিবি কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়া পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। শেয়ারবাজারের লাগাতার দরপতন ঠেকাতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যাবতীয় পলিসি সাপোর্ট দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে অন্তত ১৮টি ব্যাংক শেয়ারবাজারে দুই হাজার কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে। আর সেই বিনিয়োগ শুরু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। খোদ অর্থমন্ত্রী বাজারে তারল্য সংকট দূর করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহ থেকেই বাজারে একটি ইতিবাচক প্রভাব শুরু হবে।

২০১০-১১ সালে মার্কেট ধসের পর এ পর্যন্ত ৭৩টি আইনের সংস্কার হয়েছে। আরো কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পৃথিবীর কোনো ক্যাপিটাল মার্কেটে এই ৯ বছরে এতো সংস্কার হয়েছে বলে মনে হয় না। এর মধ্যে কতগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এসেছে এবং কতগুলো মাইনর সংশোধন। সবমিলিয়ে গত ৯ বছরে সিকিউরিটিজ আইনগুলোতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হয়েছে। এই সব আইনই সংশোধন হয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তার জন্য। এছাড়া পুঁজিবাজারে যারা ইন্টারমিডিয়ারি রয়েছে তাদেরকে সুশৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য। কিন্তু মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকায় এসব আইন প্রণয়ন করেও দৃশ্যত কোন ফল দেখা যাচ্ছে না। সামগ্রিক পুঁজিবাজারের অবস্থাই যেখানে টালমাটাল সেখানে আইন-কানুনের বাস্তব ফল দেখা যায় ‍না।

আর এই টালমাটাল পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে স্টেকহোল্ডাররা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বাজারকে ভালো করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। অন্যদিকে তারল্য সংকট কাটাতে আইসিবি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আসছে। তাই বিনিয়োগকারীদের এখন আতঙ্কিত হয়ে হাতে থাকা শেয়ার লোকসানে বিক্রি করা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত হবে না। পুঁজিবাজারে সুদিন আসছে….

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top