১১ পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার

আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত হ্রদয় নিয়ে আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহদোয় এর নিকট একজন নাদান বিনিয়োগকারীর কিছু আবদার উপস্থাপন করার সাহস করছি। আমি ধরেই নিচ্ছি এই প্রস্তাবনা গুলো ওনার নজরে আসবে না হয়ত। লেখার হাত আমার তেমন ভালো নয়। আমি শুভ্র সরকার। পূঁজিবাজারের অনেকের মতই আমিও ধরা আছি। মানীয় মন্ত্রী মহদোয় আজকের বাজারের ভিত শক্ত করতে আমার প্রস্তাবনাগুলো নিম্নরূপঃ

১। আমাদের পুঁজিবারের লিষ্টিং আইন সংশোধন করে অর্থঋণ আইন এর দ্বারা আবৃত করতে হবে। যাতে করে কোন কোম্পানি যদি গ্রাহকের টাকা ফেরত না দিতে পারে তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরতের জন্য মামলা করতে পারে;

২। কোন কোম্পানিকে কোন ভাবেই ডিলিষ্ট করা বা ট্রেড স্থগিত করা যাবে না যতদিন না বিনিয়োগকারীর পাওনা নিশ্চিত না হবে;

৩। কোম্পানি যতদিন পুঁজিবাজারে থাকবে ততোদিন পরিচালক হোল্ডিং লক থাকবে। শুধু মাত্র মালিকানা পরিবর্তনের জন্য শেয়ার বিক্রয় বা হস্থান্তর করতে পারবে তাও পূর্বানুমতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিতে;

৪। বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই এর কোন সদস্য বিনিয়োগকারীর স্বার্থ বিরোধী কোন প্রস্তাবনা বা গেমলিং এ ইন্দন, উৎসাহ বা সংশ্লিষ্ট থাকলে তার সদস্যপদ অবসায়ন হবে;

৫। ঘোষনা দিতে হবে যে নতুন করে কোন কোম্পানিকে ওটিসি বা ডিলিষ্টিং করা হবে না। সম্প্রতি যে ২টি ডিলিষ্টিং হয়েছে দ্রুত তাদের লিষ্টিং করতে হবে।

৬। ওপেন মার্কেটে যে কোন শেয়ারের গেম্বলিং হতেই পারে। তার জন্য গেম্বলিং চলাকালিন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গেম্বলিং শেষে ব্যবস্থা নিলে সাথে গেম্বলিং ধরতে না পারার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়ীদেরও পানিশমেন্টের ব্যবস্থা রাখতে হবে;

৭। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারী নিজ সিদ্ধান্তে পছন্দের শেয়ারে বিনিয়োগ করবে, হউক সেটা খারাপ বা ভাল কোম্পানি। কিন্তু ফেসবুক বা অন্য কোন পন্থায় যাতে কোন চক্র নিরীহ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য আইটি নজরদারী এবং দায়িদের পানিশমেন্টের আওতায় আনতে হবে;

৮। ঊর্ধ্বমুখীর সাথে সাথে নিম্নমুখীর বিষয়েও তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে;

৯। ডিএসই এর কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। হুট করে ডিলিস্টিং এর উদ্দেশ্যে কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা কার স্বার্থে তাও তদন্ত করতে হবে। যে সব কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষনা তার থেকেও বাজে এবং বন্ধ কোম্পানি গুলোর ক্ষেত্রে ( বিডি সার্ভিস, কিছু ফিন্যান্স কোং, তুংহাই, সিএনএ, ইত্যাদি…) বিরুদ্ধে চুপ থাকা কার স্বার্থে তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিতে হবে;

১০। লিষ্টিং যে কোন কোম্পানির ক্ষেত্রে ডিএসই এর অযাচিত হস্তক্ষেপ স্থায়ি ভাবে বন্ধের ঘোষনা দিতে হবে। তারা শুধু মাত্র প্রস্তাবনা বিএসইসিতে উপস্থাপন করতে পারবে এমন ব্যবস্থা করতে হবে।

১১। হুট করে মডার্ন ডায়িং এবং রহিমা ফুড কার স্বার্থে ডিলিষ্টিং করা হলো তা বের করতে তদন্তের ঘোষণা দিন। কারন বিএসইসির মাধ্যমে খারাপ কোম্পানি কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে লিষ্টিং হবে আর ৮/১০ বছর না যেতেই ডিএসই মাধ্যমে সে সব কোম্পানি ডি-লিষ্টিং এর মাধ্যমে দায় মুক্তি পাবে তা কখনো একটা গতিশীল এবং বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজারের কার্যক্রম হতে পারে না।

মাননীয় মন্ত্রী মনে রাখতে হবে একটা কোম্পানি লিষ্টিং হওয়া মানেই সেখানে সাধারন বিনিয়োগকারীর পুঁজি আটকা পরা এবং এটাই স্বাভাবিক। তাহলে কার স্বার্থে ডিএসই সেই পুঁজি নিয়ে কোং মালিক পক্ষকে সেইফ এক্সিট দিচ্ছে? তা অবশ্যই তদন্তযোগ্য বিষয়।। আমার বিশ্বাস এসব এর কিছুও যদি আপনি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তাহলে আমাদের বাজার ঘুরে যাবে। সাধারন বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গাগুলো মজবুত না করতে পারলে বড় কর্তাদের সাথে বড় বড় মিটিং করে কোন লাভ হবে না। তাতে করে আপ্যায়নের খরচগুলোও জলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দেশের আপামর বিনিয়োগকারীদের, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে আপনিই পারেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে, এ আমার সু-দৃঢ় বিশ্বাস। জয় বাংলা…

শুভ্র সরকার ( কৃষিবিদ)

ইউনাইটেড ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড

শেরপুর, বগুড়া।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top