বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে?

আগে পুঁজিবাজারের দরপতনে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালেও এখন আর তাদের চোখে পড়ছে না। কমিশন এবং ডিএসই’র কড়া ব্যবস্থায় প্রতিবাদের ভাষা এখন মনের অভিশাপ। সভা-সেমিনার আর টকশো’তে জ্ঞানীদের ইতিবাচক কথা শোনা গেলেও বিনিয়োগকারীদের কাছে তারা এখন জাস্ট জোকার। অ্যানালাইটিক্যাল রিপোর্টগুলো যেন ওয়াস্ট অব পেপার। সূচক আর শেয়ার দরের পতন হলেই মনে হচ্ছে কেউ শরীরের চামড়া টান দিয়ে ছিড়ছে। বুকের ভেতর যে এক অসহ্য ব্যাথা যার পুঁজি শেষ হচ্ছে সে ছাড়া অন্য কারো বোঝার ক্ষমতা নেই। বন্দুকের নলা বন্ধ করে ট্রিগারে চাপ দেওয়ার মতো অবস্থা।

যদিও শেয়ারের দরপতনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোন কাজ নেই। কিন্তু অভিভাবক হয়ে এই ক্রান্তিলগ্নে কোনো ভূমিকাই রাখবে না সেটা কেউ মেনে নেবে না। বাজারকে স্বচ্ছ করতে বিএসইসি আইন-কানুনের ব্যাপারে অনেক কাজ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু শুদ্ধাচার অভিযানে বারবার পিছিয়েছে। কোন শেয়ারে কে কারসাজি করছে, কারা একই শেয়ারকে বার বার প্রভাবিত করছে সেটা কমিশনের কাছে দিনের আলোর মতো পরিস্কার।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কান্ডারির মতো  দুটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও এর কোন বাস্তবিক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। কারণ ব্যাংক যেখানে তার নিজের ক্লায়েন্টকেই টাকা দিতে পারছে না সেখানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার টাকা কোথায় পাবে। কিসের সংকেত দিচ্ছে পুঁজিবাজার, কোনদিকে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি সেই উত্তর গবেষকরাই ভালো দিতে পারবেন।

আইসিবি ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে মার্কেট দু’তিন দিন ভালো থাকে। এরপর আবার সেই আগের অবস্থায় চলে আসে। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা এমনভাবে আটকে আছেন যে টাকা বের করে আবার নতুন বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। মার্কেটের এই অবস্থায় এখন যারা বিনিয়োগ করবে তারাই ব্যাপক লাভবান হবেন একথা সত্যি হলেও নতুন বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বাজারে আসছে না।

বাজারকে ভালো করতে যত পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে কোনটাই কাজে আসছে না। এর অর্থ সঠিক ডায়াগনসিস (রোগ নির্নয়) হচ্ছে না। সঠিকভাবে রোগ নির্নয় করে যদি ওষুধ প্রয়োগ করা যায় তাহলেই এই বাজারের সমস্যা দূর হবে। এজন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ ভালো ডাক্তার।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

Top