বিনিয়োগকারীর টাকা নিয়ে পালাচ্ছে রাঙ্গামাটি ফুড

14288শেয়ারবাজার রিপোর্ট : উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটের রাঙ্গামাটি ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড। এছাড়া এ কোম্পানির ঢাকার অফিসও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কোম্পানি বিক্রি করে পরিচালনা পর্ষদ আড়াল হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই এ কোম্পানির যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি বিনিয়োগকারীরা। এজন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, রাঙ্গামাটি ফুড ১৯৭৯ সালের ২২ জুন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৩ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের জুন মাসে কোম্পানিটিকে নানা অনিয়মের কারণে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে পাঠিয়ে দেয় বিএসইসি।

এদিকে তালিকাভুক্তির পর ২০০২ সালে মাত্র ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েই দায় সেরেছে রাঙ্গামাটি ফুড। তারপর থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানিটি লোকসানের পর লোকসান দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত করেছে। ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা পুঞ্জীভুত লোকসান নিয়ে বর্তমান এটি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ আরাম-আয়েশেই দিনযাপন করছেন। অথচ এ কোম্পানির অর্ধেকেরও বেশি শেয়ারের মালিক সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে সম্প্রতি কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পন্য বিক্রি না হওয়ার কারণে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে ঢাকার অফিস ছেড়ে দিয়েছে রাঙ্গামাটি ফুড। এদিকে ডিএসইতে এ কোম্পানির ঢাকার অফিসের ঠিকানা ২৩, পুরানা পল্টন লেন (৩য় তলা),ঢাকা-১০০০ দেয়া হয়েছে। কিন্তু উল্লেখিত ঠিকানায় এ কোম্পানির অফিস নেই। এ কোম্পানির রেজিষ্টার্ড অফিস হোল্ডি নং: ৩৮,সুগন্ধা আর/এ,রোড নং : ২/খ,পাঁচলাইশ,চট্টগ্রাম। অন্যদিকে এ কোম্পানির ফ্যাক্টরী হচ্ছে বিএসসিআইসি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল এস্টেট,কানাইপুর,ফরিদপুর।

এদিকে কোম্পানির পরিচালকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি। রাঙ্গামাটি ফুডের চেয়ারম্যান হচ্ছেন পিবি বড়ুয়া,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিকে বড়ুয়া। এছাড়া অন্যান্য পরিচালকরা হলেন,প্রভাকর বড়ুয়া,কে কে বড়ুয়া,আঙলা প্রু মার্মা,অভিজিত বড়ুয়া এবং মনোরঞ্জন চাকমা। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে।

২০০৯ সালের ৩০ জুন এ কোম্পানির সর্বশেষ লেনদেন হয়। প্রায় ৬ বছর ধরে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে রয়েছে। ১০ টাকা ফেসভ্যালুর এ কোম্পানির সর্বশেষ লেনদেন হয় ১৩.৮০ টাকা। উল্লেখ্য, কোম্পানিটির মোট ৩০ লাখ শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৩৩.৩৩ শতাংশ,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৬.৪০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৫০.২৭ শতাংশ শেয়ার। ৩০ জুন,২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ কোম্পানির কর পরিশোধের পর লোকসান হয়েছে ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও শেয়ার প্রতি লোকসান ০.৯১ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ০.২২ টাকা। এদিকে সমাপ্ত অর্থবছর পর্যন্ত এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৩৭ টাকা। অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার প্রতি ইক্যুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.১২ টাকা।

অর্থাৎ কোম্পানি বিক্রি করে দিলে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভাগিদার হবেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ নিজেরাই তা ভাগবাটোয়ারা করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কার্যকরী ব্যবস্থা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা রাখা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top