গ্রাহক কার সঙ্গে ব্যবসা করবে সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ উচিত নয়: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে গ্রাহক যেসব বীমা কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করছে তাদের সঙ্গেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবসা করতে হবে বলে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর এই বাধ্যবাধকতা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে গ্রাহক কার সঙ্গে ব্যবসা করবে সে বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ জুলাই বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিআইএ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১লা আগষ্ট ২০১৯ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত কোম্পানিসমূহ যে সকল গ্রাহকদের সাথে ব্যবসা করছে সেই সকল গ্রাহকদের সাথে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ব্যবসা করবে। আর বিআইএ’র এই সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের মনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বিআইএ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর একটি সংগঠন। তারা যদি কোন সার্কুলার জারি করে এটা তাদের ব্যাপার। তবে কোন গ্রাহক কখন কার সাথে ব্যবসা করবে তা সম্পূর্ণ বীমা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ব্যপার। এতে কারো হস্তক্ষেপ না করাই উচিত। বিআইএ কখন এ সার্কুলার দিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তবে যদি দিয়ে থাকে তা হলে হয়তো বীমা কোম্পানিগুলোর ভালোর জন্যই দিয়েছে। গ্রাহক কার সাথে ব্যবসা করবে বীমা আইনে এ ধরনের কোন আইনি নিদের্শনা নেই। গ্রাহকরা হচ্ছেন স্বাধীন। তাদের কাছে যে প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বস্ত মনে হবে তারা সেই প্রতিষ্ঠানের সাথেই ব্যবসা করবে। আইডিআরএর পক্ষ থেকে এ ধরণের কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন জানিয়েছেন, গ্রাহকরা মূলত সেবা চায়। যদি কোন গ্রাহক এক জায়গায় ব্যবসা করে সেখানে সেবা ভালোই বলেইতো ব্যবসা করছে। সে এখন অন্য জায়গায় যেতে চায় কেন। মনে হয় গ্রাহকদের আগে যে অভ্যাস ছিল আমাদেরও যে অভ্যাসটা ছিল যে কমিশন দিয়ে ব্যবসা ছিনিয়ে নেওয়া সেটার জন্যই লোকে পরিবর্তন চায়। আমরা চাচ্ছি যে জায়গায় ব্যবসা সে জায়গাই করুক। ৩১ ডিসেম্বর,২০১৯ পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকুক। এরপরে দেখা যাক কি হয়। এখানে ভালো হওয়ার চেয়ে খারাপ হওয়ার কিছু নেই। আর হঠাৎই গ্রাহক এক জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে আসতে চাইলে সেটা তার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। ৩১ ডিসেম্বরের পরে এর বাস্তব চিত্র দেখে পরবর্তীতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান শেখ কবির।

এদিকে গ্রাহকরা বলছেন, যে বীমা কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহক ব্যবসা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না তার সঙ্গে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কেন ব্যবসা করতে হবে। কে কার সঙ্গে ব্যবসা করবে এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষপ করা হলে বীমা সেক্টরে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। তাই বিআইএ’র এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত বলে মনে করেন তারা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top