আতঙ্ক দূর করে সব স্তরের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসা উচিত


শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বর্তমানে পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর তলানিতে নেমে আসলেও আস্থা আর আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে না। কম দরে শেয়ার কেনার পরও দর আরো কমতে সেই আতঙ্ক বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীদের মনে বিরাজ করছে। যে কারণে বার বার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চললেও হোঁচট খাচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই আতঙ্ক দূর করে বাজারকে গতিশীল করতে সব স্তরের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের তুলনায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারী বেশি। অর্থাৎ ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ৯০ শতাংশ আরও ১০ শতাংশ মাত্র প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। ১০ শতাংশ বিনিয়োগকারী বাজার ভালো করতে চাইলেও তারা ততটা প্রভাবিত করতে পারেন না। আবার এ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা সবসময় শেয়ার বুঝে-শুনে কেনেন এটাও বলা যাবে না। কারণ তারা অনেক সময় বুঝতে পারেন না কোন শেয়ার কখন কিনতে হবে। দেখা যায় যখন একটি শেয়ার দর দুই বা তিন দিন ধরে বাড়ছে, তারা মনে করেন এটি আরও বাড়বে, তখন ওই শেয়ারের প্রতি ঝোঁক বেশি দেখা যায়। এতে ওই বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে কোনো শেয়ারদর ক্রমাগত কমছে বা শেয়ারদর অবমূল্যায়িত হচ্ছে। তখন বিনিয়োগকারী ভয়ে ওই শেয়ারগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন। আসলে বাজার এখন ভীতির মধ্যে রয়েছে। তাই বাজার গতিশীল করতে হলে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
জানা যায়, পুঁজিবাজারে মোট ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। গত দুই থেকে তিন বছরে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে অব্যবস্থানা, সুশাসন এবং খেলাপি ঋণ নিয়ে। সে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর এখন সবচেয়ে কম।
তাই বাজার ভালো করতে হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভালো পারফরম্যান্স করার পাশাপাশি সুশাসন ও খেলাপি ঋণের পরিমাণও কমাতে হবে। এছাড়া সব স্তরের বিনিয়োগকারীদের বাজারের প্রতি আস্থা রেখে বিনিয়োগে অংশগ্রহন করতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

Tags

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top