সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস: পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বলা হয়ে থাকে, সঞ্চয়পত্র আর পুঁজিবাজারের মধ্যে একটি বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সুখবর মানে পুঁজিবাজারের জন্য খারাপ। আবার সঞ্চয়পত্রের মন্দাবস্থা মানে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। চলতি ২০১৯-২০ এর প্রথম প্রান্তিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে এক ধরণের ধস নেমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এ বছর সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে গেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, তিন মাসেই সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে ৮ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। গত ১০ বছরের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে এই নিম্ন প্রবণতা এবারই প্রথম। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট বিক্রি হয় ১৭ হাজার ৪২১ কোটি টাকা, যা থেকে মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।

চার কারণে গত ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণগুলো হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা, ব্যাংক হিসাব খোলা, অনলাইনে আবেদন করা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিবরণ দেওয়া।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে কেনার ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়েছে। একই দিন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে টিআইএন ও ব্যাংক হিসাব।

এ ছাড়া একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৬০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে না পারা এবং ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলেই উৎসে কর ১০ শতাংশ কেটে রাখার নিয়ম করার কারণেও নিট বিক্রি কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top