পুঁজিবাজারমুখী হয়েছে ৫৬৫ প্রাতিষ্ঠানিক বিও

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: চলতি বছরের শুরুটা ভালো হলেও সারাবছর বার বার হোঁচট খেয়েছে পুঁজিবাজার। যখনই ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে তখনই কোনো না নেতিবাচক ইস্যু বাজারকে প্রভাবিত করেছে। এতে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়। যে কারণে হতাশ হয়ে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার ছেড়েছেন। ফলশ্রুতিতে গেল বছরে ২ লাখ ২ হাজার ৫৫টি ব্যক্তি বিও (বেনেফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট কমেছে। তবে আশার কথা ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছে যা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বেনেফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট ছিলো ২৭ লাখ ৬৭ হাজার ২০৬টি। সেখানে বছরের শেষ দিনে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর মোট বিও’র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১টি। অর্থাৎ গেল বছরে বিও নবায়ন না হওয়া এবং নিয়মিত বিও খোলা বা বন্ধ হওয়ার হিসেবে বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে ২ লাখ ২ হাজার ৫৫টি। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরুষ বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৭টি এবং মহিলা বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৪টি। বছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি পুরুষ বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ছিলো ২০ লাখ ২৭ হাজার ৬৬১টি এবং মহিলা বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৫টি। আলোচিত সময়ে পুরুষ বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৪টি এবং মহিলা বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমেছে ৫৩ হাজার ৫৮১টি।

এদিকে কোম্পানির বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ বছরের শুরুতে যেখানে ছিল ১২ হাজার ৫৮৫টি সেখানে বছরের শেষ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫০টি। অর্থাৎ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমলেও কোম্পানির বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৫৬৫টি। বর্তমানে কোম্পানির ধরণে রেগুলার বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ১১ হাজার ৭০৯টি, ক্লিয়ারিং ৭৫৬টি, প্রিন্সিপাল ৪৮৯টি এবং অমনিবাস অ্যাকাউন্ট রয়েছে ১৯৬টি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রভাব, একই জাতীয় পত্র, মোবাইল নাম্বার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট খোলায় নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক বিও অ্যাকাউন্ট কমার অন্যতম কারণ। বাজার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় বিনিয়োগকারী আস্থা সংকটে বাজারমুখী হচ্ছেন না। তবে কোম্পানির বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন তারা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top