সূচক পতনের বেজ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নীতি নির্ধারণী মহলের বৈঠক এবং টিভি আলোচনা থেকে শুরু করে বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সাক্ষাতকার থেকে যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে টাকার সংকট। আর আস্থার সংকটের কারণেই এই টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় সবাই এ দুটি সমস্যার কথা জানালেও সমাধানের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান বাজারের অবস্থা এতোটা ভয়াবহ যে এখানে নতুন করে কেউ বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। যদিও মার্কেট সংশ্লিষ্ট সবাই জানে এখন যদি বিনিয়োগ করা হয় তাহলে একটি সময় এই বিনিয়োগ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আস্থা রাখা যাচ্ছে না। কারণ এখন বাজারের সূচক যেভাবে কমছে সামনে এর থেকে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি যে সৃষ্টি হবে না সেই গ্যারান্টি নেই।

আজ ১৩ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৮৮ পয়েন্ট পতনে সূচকের অবস্থান ৪১২৩ পয়েন্ট। এর আগে ২০১৫ সালের ৭ মে সূচকের অবস্থান ছিল ৪১২২ পয়েন্ট। অর্থাৎ ৪ বছর ৯ মাসের মধ্যে আজ সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ডিএসই’র সূচক। এর শেষ কোথায় সেই প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগিদের মনে।

যদি একটু পেছন ফিরে তাকানো যায় তাহলে দেখা যাবে, ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক চালু হওয়ার দিন সূচক ছিল ৪০৫৫ পয়েন্ট। এরপর এই সূচক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল দাঁড়ায় ৩৪৩৯ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচকের উত্থান শুরু হয়। কয়েকমাস পর সূচকের পতন হতে হতে ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর দাঁড়ায় ৩৭৭২ পয়েন্ট। এরপর আবার সূচকের উত্থান শুরু হয়। দেড় বছর সূচকের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালের ৪ মে সূচক দাঁড়ায় ৩৯৬০ পয়েন্ট। এরপর পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়ায়। এর ঠিক এক বছর পর সূচকের পতন হতে হতে ২০১৬ সালের ২ মে দাঁড়ায় ৪১৭১ পয়েন্ট। এখান থেকে বাজারে আবার বাই প্রেসার শুরু হতে থাকে।

ওপরের তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায় ৭ বছর ধরে বিভিন্ন সময় সূচক পতনের বেজ ছিল ৩৪৩৯, ৩৭৭২, ৩৯৬০ এবং ৪১৭১ পয়েন্ট। এইসব পয়েন্টে সূচক পতনের পর থেকেই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সূচক যে অবস্থায় রয়েছে তাতে এর থেকেই আবার বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করা যায়। কিন্তু এই ক্যাপিটাল মার্কেটের কোন গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি কিছুই নয়।

বিনিয়োগকারীরা মার্কেটে আবার সরগরম হবে। কিন্তু সেই পরিবেশটাতো তৈরি করে দিতে হবে। বহুদিন ধরে এমডি ছাড়া উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ চলছে। ডিএসই’র এমডি হিসেবে আইসিবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানাউল হককে নিয়ে যে মাতামাতি দেখা গেছে তাতে ডাল মে কুচ কালা হ্যায় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডিএসই’র এমডি হিসেবে সানাউল হককে অনুমোদন দিল কি না দিল সে ব্যাপারে ডিএসই’র কোন হ্যাডেক নেই। কারণ এইবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ডিএসই থেকে এমডি নিয়োগের সুপারিশ না করা হয় তাহলে কমিশনের পক্ষ থেকে এমডি নিয়োগ করা হতো। যা ডিএসই কর্তৃপক্ষ কখনোই চাইবে না। তাই বিএসইসি অনুমোদন দেক বা না দেক কিছু যায় আসে না। ডিএসই তো কমপ্লায়েন্স পালন করেছে। সানাউল হককে এমডি হিসেবে নিয়োগ না দিলে কমিশন আবার সময় দেবে। এতে ডিএসই’র কোন সমস্যা নেই। এতোমাস যদি এমডি ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ চলতে পারে বাকিটা সময়ও পারবে। যেভাবে মূহূর্ত্বের মধ্যে বোর্ডের সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে তাতে কে কোন হাউজে কোন শেয়ারে কি পরিমাণ লেনদেন করছে তার তথ্যও ছড়িয়ে পড়া জটিল কিছু নয়।

এরকম পরিস্থিতি হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাটা আসবে কোথা থেকে? নীতি নির্ধারণী মহলের মুখের আশ্বাসে বিনিয়োগকারীদের আর আস্থা ফিরবে না। এখন আস্থা ফেরানোর একটাই পথ সেটা হচ্ছে বাই প্রেসার তৈরি করতে হবে। টানা কয়েকদিন মার্কেট বাই মুডে থাকলে আবার বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসবে। কারণ পতনের বাজার শেয়ার কেনার উপযুক্ত এই থিউরি বাংলাদেশের মার্কেটের জন্য প্রযোজ্য নয়। এখানে শেয়ার দর বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে আর দর কমলে আতঙ্কে হাতে শেয়ার লোকসানেও বিক্রি করে দেয়। আউট অব দ্য বক্সে থেকে চিন্তা করতে পারলেই মার্কেটের উন্নতি সম্ভব। অন্যথায় যতই আইন-কানুন তৈরি হোক না কেন লাভ হবে না।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top