উত্তাল শেয়ারবাজার: রাস্তায় ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১০-২০১১ সালের মহাধ্বসের চেয়েও বর্তমান শেয়ারবাজার খারাপ অবস্থায় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। প্রতিনিয়ত সূচকের পতনে পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক চালু হওয়ার দিন ছিল ৪০৫৬ পয়েন্ট। আজ প্রায় ৮ বছর পর ডিএসইএক্স সূচক দাঁড়িয়েছে ৪০৩৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ সূচক তার শুরুর দিনের চেয়ে নিম্নে অবস্থান করছে। টানা দরপতনে অতিষ্ঠ হয়ে পুঁজিবাজারের সামনে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ-মানব বন্ধনে অংশগ্রহণ করছেন। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও মামলা-হামলাকে উপেক্ষা করে নিজেদের অস্বিত্ব রক্ষায় আজ ১৪ জানুয়ারি ডিএসই’র সামনে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর আর্তনাদে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। যেকোন মূল্যে পুঁজিবাজারকে ভালো করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি বিনিয়োগকারীরা। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি একেএম মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সবকিছুর দাম বাড়ে কিন্তু শেয়ারবাজারের দাম বাড়ে না বরং দিনের পর দিন রসাতলে যাচ্ছে। এর আগে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিটাও তেমন দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সরকার সব দিকে উন্নয়নের জোয়ার দেখালেও শেয়ারবাজারকে ভালো করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এদিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের টাকা চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। বাজারে সুশাসন বলতে এখন কিছু নেই। যারা বাজারে আস্থা ফেরানোর পদক্ষেপ নেবেন তারাই দর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন। অথবা কিছুই করতে পারছেন না। কিছু করতে না পারার কারণ হচ্ছে তাদের কোনো কাজ নেই। শুধু দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে দরকার দক্ষ ও শক্তিশালী একটি কমিশন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পুনর্গঠন ছাড়া পরিস্থিতি বদলাবে না। আইনি কাঠামোয় শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top