স্থিতিশীল মার্কেটই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে-মঈন আল কাশেম

Moin Al Kashem 1প্রাইম ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মঈন আল কাশেম। মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ খাতে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নিচে সাক্ষাতকারটির চুম্বক অংশ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদন আহসান হাবীব ও মতিউর রহমান।

শেয়ারবাজারনিউজ: মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনাস্থার কারণ কি?

মঈন আল কাশেম: ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট মানুষ সহজে নিতে চায় না। কারণ এর সাথে ট্রাস্ট জড়িত। ফাইন্যান্সিয়াল খাতে এই ট্রাস্ট একদিনে অর্জন করা যায় না। যেমন আইসিবি পরিচালিত মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই প্রোডাক্টগুলো তখন একেবারে নতুন ছিল। সেই সময়ে এই প্রোডাক্টগুলো সাধারণ মানুষ সেইভাবে গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে যখন এই প্রোডাক্ট অর্থাৎ মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়মিত ভাল ডিভিডেন্ড দেয়া শুরু করলো তখন ধীরে ধীরে মানুষ এর প্রতি আস্থা অর্জন শুরু করেছে। তবে সেই সময় আইসিবি একমাত্র ফান্ড ব্যবস্থাপক থাকায় তারা ব্যবসা করার ভাল সুযোগ পেয়েছিল। তাছাড়া সেই সময় প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য ১৫ শতাংশ এবং আইসিবি’র জন্য ১০ শতাংশ কোটা ছিল। সে কারণে তারা একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছিল। এর ফলে তারা একটা ভাল অবস্থায় যেতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও এখন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য কোটা বরাদ্দ রয়েছে তবে সেই সাথে প্রতিযোগীতাও বেড়েছে। আগে আইসিবিই শুধু একা কোটা সুবিধা পেত। এখন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কমেছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: মিউচ্যুয়াল ফান্ডের চলমান দূরাবস্থার জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপককে দায়ী করা হয়। এই বিষয়ে আপনার অভিমত কি?

মঈন আল কাশেম: এই ভাবে যারা আমাদের দায়ী করছেন তারা না বুঝেই ঢালাও ভাবে দায়ী করছেন। ২০১০ এর মহাধসের কারণে বাজার মূলধন ১০০ শতাংশেরও বেশি পড়ে গিয়েছিল। সেই হিসাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে তো খুঁজে পাওয়ারই কথা না। কারণ বাজার ধসের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড। অথচ আজ দেখেন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর কি অবস্থা। মহাধস সত্ত্বেও তারা বেশ ভালভাবেই আছে এবং বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। তাই ফান্ড ব্যবস্থাপকেরা যে অদক্ষ এই মন্তব্যটি ঢালাওভাবে করা যাবে না।

শেয়ারবাজারনিউজ: বর্তমানে ফান্ড গঠন করতে গেলে কি ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?

মঈন আল কাশেম: স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মার্কেটে বে-মেয়াদি ফান্ডে নতুন বিনিয়োগকারীও নেই। এর জন্য রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইউনিট ফান্ডটি গঠন করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। ৫০ কোটি টাকা আকারের ফান্ড মাত্র সাড়ে ৩২ কোটি টাকায় সাবস্ক্রাইবড করাতে পেরেছি। এর জন্য আমাদেরকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। সাধারণ কিংবা ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কেউই বিনিয়োগ করেনি। অথচ মার্কেট যখন ভাল ছিল আমাদের একটি বে-মেয়াদি ফান্ড সাবস্ক্রাইবড করাতে মাত্র পাঁচ দিন সময় লেগেছিল।

শেয়ারবাজারনিউজ: সঞ্চয়পত্র উচ্চ সুদের হার কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি?

মঈন আল কাশেম: সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদের হারও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভাবছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকরলে প্রতিবছর ১২-১৩ শতাংশ স্থায়ী সুদ পাওয়া যাবে। আর ফান্ডের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কেট ভাল থাকলে এখান থেকে বড় ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে অপরদিকে মার্কেট পড়ে গেলে ডিভিডেন্ডও কমে যাবে। তাই সবার আগে মার্কেটকে স্থিতিশীল হতে হবে। আর স্থিতিশীল মার্কেটই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বাংলাদেশে মেয়াদি ফান্ডের তুলনায় বে-মেয়াদি ফান্ডের জনপ্রিয়তা কম। এর কারণ কি?

মঈন আল কাশেম: বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারে মেয়াদি (ক্লোজ-এন্ড) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তুলনায় বে-মেয়াদি (ওপেন-এন্ড) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের গ্রহণ যোগ্যতা বেশি। কিন্তু আমাদের এখানে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ব্যবসা শুরু হয়েছে মেয়াদি ফান্ড দিয়ে। কারণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো মেয়াদি ফান্ডকে গুরুত্ব বেশি দিয়ে আসছে। এর পেছনে বেশি কিছু কারণ রয়েছে যেমন; কমপক্ষে ১০ বছর মেয়াদ রেখে মেয়াদি ফান্ড গঠন করা হয় অর্থাৎ এই ১০ বছর ফান্ডের টাকা সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে থাকে। এই ফান্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার কাছ থেকে কেউ নিয়ে যেতে পারবে না। যদিও ইউনিট হোল্ডারদের জন্য এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সেকেন্ডারি মার্কেটে লিস্টিং হলে যে কেউ যে কোন সময়ে ইউনিট বিক্রি করে দিতে পারে।

শেয়ারবাজারনিউজ: তাহলে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দুর্বলতা কোথায়?

মঈন আল কাশেম: এক জায়গায় বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ কোন ফান্ডের নীট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ভাল থাকলেও সেকেন্ডারি মার্কেটে ফান্ডটির প্রতি ইউনিট এনএভি থেকে ডিসকাউন্টে বিক্রি হচ্ছে। এই রকম ডিস্কাউন্টে দেয়ার কারণ সরাসরি বোঝা যায় না। এটাকে একটা ট্রেডিশন হিসাবে ধরে কিংবা চালিয়ে নেয়া হয়। এটা যে শুধু এই দেশে হচ্ছে ব্যাপারটা সেই রকম নয়। কারণ আমরা বিভিন্ন দেশের কনফারেন্সে গিয়েও দেখেছি সেখানকার মেয়াদি ফান্ডের প্রতি ইউনিট এনএভি থেকে ডিসকাউন্টে বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: এর কারণ কি?

মঈন আল কাশেম: এর কারণ হিসেবে আমি যেটা মনে করি, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এনএভি নির্ধারণ করা হয় আন্ডারলাইন শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য এবং মানি মার্কেটে করা বিনিয়োগ অনুযায়ী। তাই পরবর্তীকালে শেয়ারবাজার পড়ে গেলে ফান্ডের এনএভিও কমে যাবে। ফলে এই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে আগে থেকেই এনএভি থেকে ডিসকাউন্টে ইউনিট প্রাইস নির্ধারণ করা হয়। আর ফান্ডের নির্ধারিত এনএভি যে স্থির না বিষয়টি বিনিয়োগকারীরাও বোঝে। তাই তাদের বিনিয়োগে সুবিধার জন্য মার্কেট ডিসকাউন্টে ইউনিট ক্রয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে এই ডিসকাউন্ট সেকেন্ডারি মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ফান্ড ম্যানেজারের কোন ভূমিকা থাকেনা।

শেয়ারবাজারনিউজ: অপরদিকে বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে হিসাবটা কিভাবে করা হয়?

মঈন আল কাশেম: বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে এই ডিসকাউন্ট অ্যাসেট ম্যানেজারেরা নির্ধারণ করে। আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইন অনুযায়ী বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে অ্যাসেট ম্যানেজারের নির্ধারিত এনএভি’র সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বেশি বা কম ধরে ইউনিট প্রাইস নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। যেমন আজকে আমার এনএভি রয়েছে ১০০ টাকা সুতরাং কোন ক্রমেই ফান্ডটির পারচেজ প্রাইস বা ক্রয়মূল্য বা পুন:ক্রয়মূল্য ৮৫ টাকার নিচে নামাতে পারব না। একই ভাবে এই বিক্রয়মূল্য ১১৫ টাকার ওপরে নিয়ে যেতে পারব না। এইখানেও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন নির্ধারিত ক্রয় ও বিক্রয় এই দুটি মূল্যের মধ্যকার ব্যবধান অভিহিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের ফান্ডের ক্ষেত্রে আমরা এই ব্যবধান ৩ টাকা অর্থাৎ ১০০ টাকা ফেসভ্যালুর বিপরীতে ৩ শতাংশ পর্যন্ত রেখেছি। এইখানেই বিনিয়োগকারীরা একটি বিশেষ সুবিধা পায়। যেমন আজকে যদি আমি ইউনিট পার্চেজ প্রাইস বেশি কমিয়ে ফেলি তাহলে আবার সর্বোচ্চ দামে ইউনিট বিক্রি করা যাবেনা। তাই এখানে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য থাকতে হবে। যেমন ১০০ টাকা এনএভি হলে বিক্রয়মূল্য হবে ১০২ টাকা এবং ক্রয়মূল্য হবে ৯৯ টাকা। তাই বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে ইউনিটহোল্ডারদের ইউনিট ক্রয়-বিক্রয়ে বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বাংলাদেশে বে-মেয়াদি ফান্ডের ব্যবসা উপযোগী পরিবেশ রয়েছে কি?

মঈন আল কাশেম: বর্তমানে বে-মেয়াদি ফান্ডের একটা ফর্ম অর্থাৎ বেসিক ফর্মটি নিয়ে কাজ করছি। বে-মেয়াদির ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফর্ম রয়েছে। যেমন ইটিএফ ইত্যাকার বেশ কিছু বে-মেয়াদি ফর্ম রয়েছে যা আমাদের এখানে এখনো গড়ে উঠেনি। আর ফান্ডের আকার সীমিত হওয়ায় আইনে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা জাতীয় ইস্যুতে বিনিয়োগ করতে পারছি না। আর ফান্ডের কার্যকারিতা এবং আকার বাড়াতে হলে সংশ্লিষ্টদের বে-মেয়াদি ফান্ডের উপযোগীতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বে-মেয়াদি ফান্ডে মূলত কারা অর্থায়ন অর্থাৎ বিনিয়োগ করতে পারে ?

মঈন আল কাশেম: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পেনসনহোল্ডার, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে বে-মেয়াদি ফান্ড হওয়া উচিত। কারণ এইখান থেকে বছর শেষে ভাল ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে। আর এসব বিনিয়োগকারীদেরকে সেকেন্ডারি মার্কেটে দৈনিক লেনদেন করা সম্ভব নয়। আর এ ক্ষেত্রে সেই-সব বিনিয়োগকারীদের লুজার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। বর্তমান স্টক মার্কেট এবং দেশের বিনিয়োগে বিদ্যমান নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেও আমরা বিনিয়োগকারীদের ১৪ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছি। এমন পরিস্থিতি যাকে একেবারে খারাপ বলা যাবেনা। আর এখানে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ঘোষিত ডিভিডেন্ডে বিনিয়োগকারীরা ক্যাশ ডিভিডেন্ড আকারে নিতে পারে আবার স্টক ডিভিন্ডে আকারেও নিতে পারে। যা মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে সম্ভব না।

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনাদের ব্যবস্থাপনা ব্যয় খুবই সীমিত। পাবলিসিটির ক্ষেত্রে আপনাদেরকে কি ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে?

মঈন আল কাশেম: সেলিং (বিক্রয়) এজেন্টের মাধ্যমে বে-মেয়াদি ফান্ডের ইউনিট বিক্রয়ের যে পদ্ধতি সেটা খুব একটা কাজে আসেনা। কারণ আমাদের ব্যয়ের সীমা খুবই সীমিত। আর এই সীমা অনুযায়ী বিক্রয় এজেন্টকে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে মাত্র ২৫ পয়সা কমিশন দিতে পারি। আর এতো কম কমিশনে বিক্রয় এজেন্ট পাওয়া যায়না। তাই আমরা বে-মেয়াদি ফান্ডের বাজারজাতকরণে কিছুটা ভিন্ন উপায় অবলম্বন করেছিলাম। অর্থাৎ ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ইউনিট বিক্রির চেষ্টা করেছিলাম। কারণ আমরা ভেবেছিলাম সেকেন্ডারি মার্কেটে যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তাদেরকে স্টক ব্রোকারের মাধ্যমে বে-মেয়াদি ফান্ডে বিনিয়োগে উৎসাহী করা যাবে। তাই আমরা প্রাথমিকভাবে ১৬টি ব্রোকারেজ হাউজে রোডশো করেছি। কিন্তু এতোকিছু করার পরও কোন ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারিনি। এর জন্য মেয়াদি ফান্ডের দুরাবস্থাই দায়ী।

সীমিত ব্যয়সীমার কারণে আমরা চাইলেও বড় ধরণের পাবলিসিটি করতে পারিনা। এই প্রতিবন্ধকতা আমাদেরকেই দূর করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বে-মেয়াদি ফান্ডের নিশ্চয়তার প্রতি সচেতন হতে হবে। আর এই জায়গায় আমাদেরও অনেক কিছু করার আছে। যেমন প্রতিবছর ভাল ডিভিডেন্ড দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারি। তাই আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া ওপায় নেই। এই সময়টা সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিকে সার্ভাইভ করে যেতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সচেতনতা না থাকায় সম্পদ ব্যবস্থাপকেরা তেমন ফান্ড পাচ্ছেনা। আর ফান্ড না পেলে কোম্পানিও বেশি দিন টিকবে না। আর বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমরা ভাল করতে তখন সচেতনতা এমনিতেই তৈরি হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বে-মেয়াদি ফান্ড কি ধরণের প্রতিবন্ধকতার সম্মখীন হচ্ছে?

মঈন আল কাশেম: বে-মেয়াদি ফান্ড থেকে বিনিয়োগের সুযোগ কম। কারণ এখানে বিনিয়োগের ইন্সট্রুমেন্ট কম। আজ যদি সরকারি বন্ড মার্কেট, প্রাইভেট বন্ড মার্কেট সক্রিয় থাকতো তাহলে আমাদের বিনিয়োগের ভাল সুযোগ থাকতো। আর এইসব জায়গায় বিনিয়োগে ভাল রিটার্ন আসে। এছাড়া বাংলাদেশে ইসলামি প্রোডাক্টের অভাব রয়েছে। অথচ ইসলামি প্রোডাক্টের প্রতি সর্বসাধারণের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তাই ইসলামি প্রোডাক্ট এর মাধ্যমে অর্থায়নের মন্দা দূর করা সম্ভব হতো। আর এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। যেমন মালয়েশিয়ায় ইসলামি প্রোডাক্ট অর্থাৎ ইসলামি ফান্ডের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নীতিমালা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের অভিমত কি?

মঈন আল কাশেম: ইসলামি ধারণা থেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পদ্ধতিটি এসেছে। আর এইখানে সুদের কোন কারবার নেই। এইখানে ডিভিডেন্ডের হার সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মূলনীতি হচ্ছে টাকা আপনার আইডিয়া আমাদের। এখানে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে যেটা হচ্ছে সেখানে সম্পদ ব্যবস্থাপকের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ আইনেই বিষয়টি রাখা হয়নি। আর আমাদের পক্ষ থেকে বিএসইসি’র কাছেও কোন প্রস্তাব দেয়া হয়নি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/তু/সা

 

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top