আশ্বাসের আস্থায় বাজারমুখী বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুটা যেভাবে হয়েছিল তার ঠিক বিপরীত চিত্র দিয়ে ২০২০ সাল শুরু করেছে পুঁজিবাজার। টানা দরপতনে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মতিঝিল পাড়ায় বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন, জাতীয় সংসদে শেয়ারবাজার নিয়ে উত্তাল অবস্থা, স্টেকহোল্ডারদের বৈঠকের পর বৈঠকেও বাজার যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল না তখনই হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৬ জানুয়ারি জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শেয়ারবাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই বাজার সংশ্লিষ্ট সকলের মনে এক ধরণের আস্থা সৃষ্টি হয়।

যার ফলশ্রুতিতে গত ৫ কার্যদিবসে সূচকের ৩৭২ পয়েন্টের উত্থান হয়। ব্যক্তি বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বর্তমান বাজার নিয়ে ফের নড়েচড়ে উঠেছেন। পোর্টফোলিও ম্যানেজাররা নতুন করে বিনিয়োগ ছক তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন। সাইডলাইনে বসে এতোদিন যারা বাজার পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারাও বিনিয়োগে ফিরতে শুরু করেছেন। সবমিলিয়ে বর্তমান বাজারে একটি সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বুধবার ২২ জানুয়ারি বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, বর্তমান বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তারল্য সংকট। বাজার মূলধন ও দৈনিক লেনদেনের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্যতা নেই। ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধনের বিপরীতে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে ৫০০ কোটির নিচে যা বাজারের জন্য নেতিবাচক। যে পরিমাণ কোম্পানি বাজারে এসেছে, যে পরিমাণ বোনাস শেয়ার বাজারে যুক্ত হয়েছে তাতে সূচক ১০ হাজারের ওপরে থাকার কথা থাকলেও ৪ হাজারের ঘরে অবস্থান করছে। তাই বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যদি বাজারে গতিশীল অবস্থা তৈরি করা যায় তাহলে এই সংকট কাটিয়ে বেশিদিন লাগবে বলে মনে করেন তারা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্যাপিটাল মার্কেট এখন ট্য অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এই সেক্টরকে বাঁচিয়ে তুলতে সরকার খুবই আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর বাজার ভালো করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছেন। তাই আশা করা যায় বাজার তার হারানো গতি ফিরে পাবে। বাজার গতিশীল করার জন্য যেমন মনিটরিং দরকার তেমনি অযাচিত মনিটরিং আবার হিতে-বিপরীত হয়ে যায়। বহুদিন পর সরকারের আশ্বাসের আস্থায় বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। এই আস্থায় যেন আবার সংকট তৈরি না হয় সেজন্য অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে যুগপোযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন তারা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top